kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মহাদেবপুরে বেপরোয়া বালু ব্যবসায়ীরা

মহাদেবপুর-বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহাদেবপুরে বেপরোয়া বালু ব্যবসায়ীরা

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মহিশবাথান ঘাটে আত্রাই নদে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই নদীর মহিষবাথান ঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নীতিমালা উপেক্ষা করে খননযন্ত্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় বালু লুটের ঘটনায় এলাকাবাসী হতবাক। এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বালুদস্যুদের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিন সাংবাদিক।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আত্রাই নদীর মহিষবাথান ঘাটে সারি বেঁধে অসংখ্য ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ গর্ত করে চলছে বালু লুটের হিড়িক। মাহিষবাথান ঘাটে দাঁড়ালে উত্তর দিকে আধাকিলোমিটার পর্যন্ত কয়েক হাত পর পর ড্রেজার মেশিন সারি বেঁধে বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আত্রাই নদীর জলধারা থেকে ড্রেজিং করে এভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। মহিষবাথান ঘাটের পশ্চিম পারে সিসি ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৫০০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ আশপাশের কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বালু বহনকারী ট্রাক বেপরোয়াভাবে চলাচলের ফলে ধুলাবালি উড়ে রাস্তার দুই পাশের বাড়িঘর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই।

এলাকাবাসী আরো জানায়, বালু লুটের ঘটনায় সবখানে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও আত্রাই নদীর ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক-মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা থেকে অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। বলা বাহুল্য, এসব আইন প্রয়োগ ও প্রতিপালন করার মতো কেউ নেই। এ জন্যই বালু উত্তোলনকারীরা কাউকে তোয়াক্কা করে না। কেউ বাধা দিলে পরে তাদের রোষানলে পড়তে হয়। 

আত্রাই নদীর মাহিষবাথান ঘাটে বালুমহালের লিজগ্রহীতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমার নামে লিজের কাগজ হলেও এখানে আট-দশজন শেয়ারহোল্ডার রয়েছে। এর মধ্যে তদারকির প্রধানের ভূমিকায় রয়েছেন এমপির ছেলে রকি ও তাঁর ভাগিনা শাকিল।’

এ ব্যাপারে মহাদবেপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এসি ল্যান্ড ও সার্ভেয়ার বালুমহাল পরিদর্শন করে আমাকে রিপোর্ট দিয়েছেন যে বালুমহালের কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটা সরজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা