kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রভাব খাটিয়ে ক্যান্টিন দিচ্ছেন আ. লীগের দুই নেতা

জামালপুর সদর হাসপাতাল

জামালপুর প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জামালপুর ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবৈধভাবে ক্যান্টিন দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা। ক্যান্টিন স্থাপনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ক্যান্টিন স্থাপনের কাজ করছেন। কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হলেও সরকারি দপ্তরে ব্যক্তি বিশেষের ক্যান্টিন স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চে জামালপুর শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এবং জেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জোবায়ের হোসেন শাহীন যৌথভাবে হাসপাতালের তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে ক্যান্টিন স্থাপনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনে জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. মোজাফফর হোসেন, মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আজম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সুপারিশ রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে গত ১৫ এপ্রিল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অন্যান্য আলোচনার সঙ্গে ক্যান্টিন স্থাপনের বিষয়টিও উত্থাপিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যান্টিনটি হাসপাতাল সমাজসেবা শাখার মাধ্যমে ওই দুই নেতার নামেই বরাদ্দ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্যান্টিনের অস্থায়ী ঘর নির্মাণের ব্যাপারে বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ বাস্তবায়ন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওই সভার সিদ্ধান্তের পর প্রায় পাঁচ মাসেও গণপূর্ত বিভাগ ক্যান্টিনের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি।

এদিকে গত ২৯ আগস্ট হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ক্যান্টিনের বিষয়টি আবারও উত্থাপিত হয়। সভার সভাপতি সংসদ সদস্য মো. মোজাফফর হোসেন আগের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত ক্যান্টিন স্থাপনের জন্য আবেদনকারী ওই দুই নেতার নামেই অনুমোদন দেন। কিন্তু সভা শেষে সংসদ সদস্য মো. মোজাফফর হোসেন ক্যান্টিন স্থাপনের বিষয়ে সব নিয়ম-কানুন মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার বলে সহকারী পরিচালককে বলেন। ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য কমিটির সুপারিশে ব্যক্তি বিশেষকে না দিয়ে দরপত্রের মাধ্যমে ভাড়ায় ক্যান্টিন পরিচালনার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন সংসদ সদস্য। ফলে সহকারী পরিচালক এ নিয়ে বিপাকে ও দ্বন্দ্বে পড়েন।

এরই মধ্যে আগে আবেদনকারী হেলাল উদ্দিন ও এস এম জোবায়ের হোসেন শাহীন গত বৃহস্পতিবার থেকে হাসপাতাল গেটের পাশে ক্যান্টিন স্থাপনের কাজ শুরু করেন। সেখানে দুটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘর নির্মাণকাজ শুরু করে তারা দুজন হাসপাতালের বর্তমান সহকারী পরিচালক ডা. প্রফুল্ল কুমার সাহাকে বিষয়টি জানান। তাতে সহকারী পরিচালক বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তাদের ঘর নির্মাণে করতে নিষেধ করেন। সংসদ সদস্য দেশের বাইরে থাকায় তিনি দেশে ফিরলে পরবর্তী সময়ে ক্যান্টিনের ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তাদের জানিয়ে দেন তিনি। কিন্তু গতকাল শুক্রবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে ক্যান্টিনের ঘর নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

ক্যান্টিন ঘর নির্মাণকারী আওয়ামী লীগ নেতা মো. হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির আগের সভার অনুমোদন সাপেক্ষেই আমরা ক্যান্টিন ঘর নির্মাণ করছি। গত ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায়ও সংসদ সদস্য মো. মোজাফফর হোসেন ক্যান্টিনের বিষয়ে আগের সভার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের কাছে সভার অনুমোদনের সব কাগজপত্র আছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে জোর করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না, তা আমাদের জানা আছে। কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দিলে আমরা এখানে আসতাম না।’

এদিকে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. প্রফুল্ল কুমার সাহা বলেন, ‘সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে সব নিয়ম মেনে ক্যান্টিন ঘর নির্মাণ ও দরপত্রের মাধ্যমে ক্যান্টিন ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা