kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাঙ্গাবালীতে জিম্মি ইলিশের জেলেরা

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে গড়ে ওঠা ক্যারিং বোট (পরিবহন) মৎস্য ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ইলিশ জেলেরা। ওই সিন্ডিকেট নির্ধারিত ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এ কারণে অন্য এলাকা থেকে আসা মৎস্য ব্যবসায়ীরা মাছ কিনতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাতে জেলেরাও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্থানীয় ৪০ জন ক্যারিং মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতি করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। স্থানীয় জেলেদের সেই সিন্ডিকেট নির্ধারিত ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। যে কারণে গলাচিপা, দশমিনা ও ভোলার মৎস্য ব্যবসায়ীরা চরমোন্তাজের জলসীমায় এসেও মাছ কিনতে ব্যর্থ হচ্ছে। ভোলা থেকে মাছ কিনতে এসে হয়রানির শিকার কয়েকজন ক্যারিং মৎস্য ব্যবসায়ী জানায়, বুধবার চরমোন্তাজের সোনারচরের খালে ক্যারিং বোটে মাছ কিনছিল তারা। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় সিন্ডিকেটের মৎস্য ব্যবসায়ীরা গিয়ে তাদের সঙ্গে হট্টগোল করে। তাদের মারধর করে। একপর্যায়ে তারা চলে যেতে বাধ্য হয়।

চরমোন্তাজের জলসীমায় মাছ শিকারি কয়েকজন জেলে জানায়, চরমোন্তাজের মৎস্য ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে জেলেদের ঠকাচ্ছে। ইচ্ছেমতো মাছের দর নির্ধারণ করছে তারা। সেই দরেই জেলেরা মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তা ছাড়া প্রতি কেজিতে এক শ গ্রাম মাছ বেশি নিচ্ছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। তবে অন্য এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা এলে দর-কষাকষি করা যায় এবং ওজনেও বেশি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই অন্যান্য এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীদের আসা বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জেলেরা। তারা মাছের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে। সোনার চরসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা জেলে জামাল বলেন, ‘প্রতিবছর মাছ বেইচ্চা আরাম পাই। এই বছর তেমন সুবিধা করতে পারি না।’

চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ক্যারিং বোট মৎস্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত মোশাররফ দালাল বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরমোন্তাজ ইউনিয়নে ক্যারিং ব্যবসা করি। আমাদের ইউনিয়নে ক্যারিং ৪০টি। ব্যবসার সুবিধার্থে আমরা একটি সমিতি করার আলোচনা করি। তখন ওখানে কথা আসে, বহিরাগত যারা আছে সেই ক্যারিংগুলো কিভাবে ব্যবসা করতে পারে। তখন আমরা বলেছি, আগে সমিতি পাস হোক। এ জন্য অন্য এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা সাত-আট দিন অপেক্ষা করুক।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিন্ডিকেটের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কাজ করতে দেওয়া হবে না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা