kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফুলবাড়ী

নিষিদ্ধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন

এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিষিদ্ধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ছোট যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কারণে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রাম রক্ষা বাঁধ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে উচ্চ আদালতের। এই আদেশ ভেঙে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ছোট যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এ কারণে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রাম রক্ষা বাঁধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর মৌজার বেলতলী ও গোপালপুর ঘাট বালুমহাল হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইজারাদার ইমরুল হুদা চৌধুরী ইনু গঙ্গাপ্রসাদ ঘাট, মৎস্যর বিল থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দেদার বালু উত্তোলন করছেন। এ ছাড়া মহদিপুর ঘাট, জমিদারপাড়া ঘাট, বারাইপাড়া ঘাট ও জানিপুর ঘাটে সাব-ইজারাদার নিয়োগ করে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ইচ্ছামতো বালু উত্তোলন করছেন।

বারাইপাড়া ঘাটের বালু উত্তোলনকারী বাবলু মিয়া বলেন, প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা চুক্তিতে বালুমহাল ইজারাদার ইনুর কাছ থেকে তিনি বারাইপাড়া ঘাট সাব-ইজারা নিয়েছেন। একই কথা বলেন মহদিপুর ঘাটের বালু উত্তোলনকারী মুরাদ হোসেন। জমিদারপাড়া ঘাটের বালু উত্তোলনকারী মতিয়ার রহমান বলেন, জমিদারপাড়া ঘাট থেকে বালু উত্তোলনের জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিতে হয় বালুমহালের ইজারাদার ইমরুল হুদা চৌধুরী ইনুকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার ইমরুল হুদা চৌধুরী বলেন, ‘মাত্র দুটি ঘাট থেকে বালু উত্তোলন করে ইজারামূল্য পরিশোধ করা কঠিন। তাই ওই ঘাটগুলো সাব-ইজারা দিয়েছি।’

জাফরপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রভাষক হামিদুল হক বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে গত বছরে বন্যায় তাঁর প্রায় এক একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এই বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

রাজারামপুর গ্রামের আবু বক্কর বলেন, বালু উত্তোলনের ফলে তাঁর এক বিঘা জমি এরই মধ্যে নদীতে চলে গেছে। এখন যেভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তাতে বন্যা হলে তার পাশের জমিটিও নদীতে চলে যাবে।

এদিকে ট্রাক্টর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকলেছার রহমান সরকার নবাব বলেন, ৩৫০ টাকার এক ট্রাক্টর বালু ইজারাদার দাম নির্ধারণ করেছেন ৭০০ টাকা।

এলজিইডির ঠিকাদার মনোজ মল্লিক বলেন, বালুর মূল্য বৃদ্ধি করায় ঠিকাদারি কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ‘অনুমোদিত ঘাটেও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি নেই। হাইকোর্টের রায় রয়েছে বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে।’

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, ‘কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে পারবে না। স্বল্প সময়ের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা