kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্কুলে গরুর হাট বসবে, তাই আগেই ছুটি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্কুলে গরুর হাট বসবে, তাই আগেই ছুটি

মাঠে গরুর হাট, বারান্দায় হাসিলের টেবিল, রেলিংয়ে গরু বাঁধা। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরের গতকালের ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিদ্যালয়ের সামনে সুদৃশ্য ফটকে বিদ্যালয়ের নামফলক ঢেকে একটি ব্যানার সাঁটানো রয়েছে। লেখা রয়েছে, ‘বিশাল গরু-ছাগলের হাট।’ ভেতরে ময়লা-আবর্জনা আর গরুর মলমূত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এই পরিবেশেই পাঠদান চলছে। এমনই চিত্র ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের পাশে ৯২ নম্বর বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক যুগ ধরে এই বিদ্যালয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার গরু-ছাগলের হাট বসে। তাই এই দিন নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের আগে হাটের দিনগুলোয় এখানে তিলধারণের জায়গা থাকে না। হাট শুরু হলে হৈ-হল্লার কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদান সম্ভব হয় না। তাই ওই দিন দুপুর আড়াইটার পরিবর্তে ১২টার মধ্যেই বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। তা ছাড়া সেদিন বিকেলে বিদ্যালয় মাঠে খেলাধুলাও করতে পারে না তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, হাট বসানোর কারণে বিদ্যালয় আঙিনায় প্রচুর লোকসমাগম হয়। এ কারণে মাঠে ঘাস জন্মাতে পারে না। ন্যাড়া মাঠে তাদের খেলাধুলা করতে অসুবিধা হয়। হাটবারের পরদিন আঙিনা অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, এই পরিবেশে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে মন চায় না। তবু আশপাশে বিদ্যালয় না থাকায় বাধ্য হয়েই পাঠাতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। স্থানীয় প্রভাবশালীরাই এই হাট বসান। কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিত অভিযোগ দিলেও হাট বন্ধ হয়নি।

বাজারের ইজারাদার মিলন মেম্বার বলেন, ‘বিদ্যালয়ে কেন হাট বসে, তা আমারে কইয়েন না। ইউএনও সাহেবকে জিগাইন। জায়গা না থাকলে হাট কই বসাইয়াম। সরকারের হাট সরকারি ইস্কুলে বসাই। এতে দোষের কিছু নাই।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম সুজন জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসতে পারে না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা