kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘অপরাধপুর’ বাজিতপুর

নাসরুল আনোয়ার, হাওরাঞ্চল   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুন, ধর্ষণ, সংঘর্ষ ও লুটের দাপট চলছে। অহরহ ব্যবহৃত হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। এমন অপরাধ নেই, যা ঘটছে না কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজিতপুরে এক মাসে এক নারীসহ চারজন খুন হন। এর মধ্যে সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য গুলিবর্ষণে জোড়া খুনের ঘটনাও আছে। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকটি। সংঘর্ষে নারী ও শিশু মিলিয়ে ১৭ জন ছররা গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে শতাধিক। পুলিশ তিনটি হত্যা মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ওসি মো. খলিলুর রহমান পাটোয়ারীর দাবি, জোড়া খুনের মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটির বাদী মাইজচরের আবু বাক্কার জানান, এজাহারভুক্ত ৩৮ জন আসামির মধ্যে পুলিশ একজন আসামিও ধরতে পারেনি।

গত ১৪ আগস্ট উপজেলার শ্যামপুরপাড়ায় ইয়াবা কারবারের টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফারুক বাহিনীর সন্ত্রাসীদের গুলিতে শরীফ মিয়া ও ফোরকান মিয়া খুন হন। পুলিশ চাঞ্চল্যকর এ খুনের মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

জোড়া খুনের ঘটনার পর হত্যা মামলার আসামিসহ তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িঘরে নির্বিচার লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যও লুটপাটের ঘটনা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

২৪ আগস্ট সরারচরে ভাণ্ডা গ্রামের গরুর দালাল আবুল কাশেম তার দলবল নিয়ে দক্ষিণ সরারচরের আখ ব্যবসায়ী ইয়াসিন মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করে। ২৬ জুলাই বাহেরবালী গ্রামের আবুল কাশেমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে একই গ্রামের তাঁর প্রতিপক্ষের আফরোজা বেগম অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। রাবেয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাওরে অবৈধ খননযন্ত্রে বালু তোলা নিয়ে বিরোধে গত ২৮ আগস্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও দীঘিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিন মো. ফারুক এবং উপজেলা যুবলীগ সদস্য আনিছুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়।

লৌহগাঁওয়ের দক্ষিণপাড়ায় গোষ্ঠীগত বিরোধের সূত্র ধরে একটি পক্ষ গত ১৪ আগস্ট উত্তরপাড়ার প্রায় ৪০টি বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা ও লুণ্ঠন চালায়। এ ঘটনায় প্রায় ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ কোনো আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘোড়াউত্রা নদীতে অবৈধ ড্রেজারে বালু তোলা নিয়ে গত ২৮ জুলাই ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর আগে গত ১ আগস্ট বাজিতপুর উপজেলার রাবারকান্দি ও উছমানপুর গ্রামবাসীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় প্রায় ৪০ জন আহত হয়। ১৫-১৬টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাজিতপুর পৌরসভা সদর ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক স্পটে ইয়াবার রমরমা কারবার চলছে।

কৈলাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়ছার-এ-হাবিব বলেন, ‘অপরাধ বিষয়ে ওসি সাহেবের কাছে অভিযোগ করতে গেলে তিনি শুধু ‘দেখছি দেখছি’ করেন। বাস্তবে কিছুই আর দেখেন না। তিনি যেন গেরস্থকে বলেন, ‘জেগে থাকো’ আর চোরকে বলেন ‘চুরি করো’। তাঁর দ্বৈত ভূমিকায় মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ বেড়ে চলেছে।’     

বাজিতপুর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান পাটোয়ারী জানান, শনিবার রাতেই কৈলাগ থেকে আটজন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাসহ অন্যান্য মামলার আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আাাছে।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘বাজিতপুর থানার ওসির কর্মকাণ্ড সন্তোষজনক নয়। ক্রমেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। কিভাবে আইন-শৃঙ্খলা উন্নতি করা যায় আমরা তার উদ্যোগ নিচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা