kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বদরগঞ্জের চান্দু মণ্ডলের সেতুটি এখন মরণফাঁদ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বদরগঞ্জের চান্দু মণ্ডলের সেতুটি এখন মরণফাঁদ

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার চান্দু মণ্ডলের সেতুর পিলার ভেঙে গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের বদরগঞ্জ-মিঠাপুকুর উপজেলা সীমান্তের কুতুবপুর এলাকায় প্রায় ৭৩ বছরের পুরনো একটি সেতু পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় পথচারীদের জন্য পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। সেতুর ওপর দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার মানুষ। সেতুর মাঝের অংশের দুটি স্তম্ভ ফেটে গেছে। নিচের অংশের ইট ধসে পড়ায় সেতুটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এত কিছুর পরও সেতুটি পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য বদরগঞ্জের কুতুবপুর এলাকার সমাজসেবক ‘চান্দু মণ্ডল’ নামে এক ব্যক্তি কাঠগড়ি নদীর ওপর নিজের অর্থ ব্যয়ে স্টিলের কাঠামোর ওপর চুন-সুরকি দিয়ে একটি সেতু নির্মাণ করেন। বর্তমানে সেতুটির বয়স প্রায় ৭৩ বছর। এর মধ্যে সেতুর নিচের একটি স্তম্ভ প্রায় ভেঙে গেছে। অপরটির অবস্থাও ভয়াবহ। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। অথচ এ অবস্থায় সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ভারী যানবাহনসহ হাজার হাজার মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুতুবপুর ইউনিয়নের রোস্তমাবাদ এলাকার সেতুটি চরম ঝুঁকির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। সেতুর ওপর দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। সেতুর একটি স্তম্ভের ভেতরে থাকা স্টিলের পাত অনেক আগেই জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। সেতুর অপর স্তম্ভটিও বেহাল। পুরনো ইট, চুন-সুরকিও খসে পড়েছে। দুর্বল ভিত্তির ওপর কোনো রকম আটকে আছে সেতুটি। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে মালবাহী ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। স্থানীয় বাসিন্দা বকুল মিয়া বলেন, এর আগেও সেতুটির পাটাতন ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হয়। এখন সেতুর দুটি পিলার ভেঙে পড়ার অবস্থায়। পিলারগুলো মাঝ বরাবর ফেটে গেছে। সেতুটি ভেঙে পড়লে রোস্তমাবাদ হাই স্কুলসহ ওই এলাকার তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্যামপুর সুগারমিলসহ পাশের মিঠাপুকুর উপজেলায় চলাচলে মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান দুলু বলেন, ‘এলজিইডি থেকে মাঝেমধ্যে মাপজোক করে নিয়ে যায়। কিন্তু সেতু হয় না। জরাজীর্ণ হয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সতর্কতার জন্য সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এত কিছুর পরও দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, তা আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে সেতুটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। সেখানে আরেকটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা