kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নলছিটি

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

ঝালকাঠি প্রতিনিধি    

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মধ্য কামদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মধ্য কামদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। এ অবস্থায় সব সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এমনকি সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন অভিভাবকরাও। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিদ্যালয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

জানা যায়, উপজেলার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম মধ্য কামদেবপুর। একসময় এখানে কোনো বিদ্যালয় ছিল না। ১৯৯৬ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিদ্যালয়টি রেজিস্টার্ডভুক্ত করা হয়। নির্মাণের পর ভবনটিকে কখনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে এ ভবনে নানা ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময়ে ছাদ চুয়ে মেঝেতে পানি পড়ছে। খসে পড়েছে পিলারের ইট-বালি। অনেক কক্ষের দরজা-জানালা নেই। ফলে সব সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় থাকেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় দিন দিন তা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অথচ এখানে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকরা ক্লাস করান। কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ চারটি কক্ষে দুই শিফটে চলছে পাঁচটি শ্রেণির ক্লাস। শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই রয়েছে অফিস ও লাইব্রেরিকক্ষ। ভবন না থাকায় স্যাঁতসেঁতে এই বিদ্যালয়টিতে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাকিব জানায়, বৃষ্টির সময় ছাদ থেকে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। ক্লাসের মেঝেতে পানি জমে থাকে। তা ছাড়া প্রায়ই পলেস্তারা খসে বেঞ্চের ওপর পড়ে। তাই স্কুলে আসতে ভয় করে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিমা আক্তার জানান, শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার কারণেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে পাঠদান চলে। মধ্য কামদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভবন অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে ভয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চাইছে না। জরুরি সংস্কার করে শিক্ষার মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে শিশুরা আরো স্কুল বিমুখ হবে।

ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন সরকার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের ভবনের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা