kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ত্রিশালে ৩০ দোকান ভাঙচুর-লুট

পুলিশের ভয়ে ভুক্তভোগীরা

উল্টো গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন পার করছে তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও ত্রিশাল প্রতিনিধি    

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দোকানঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটেছে লুটের ঘটনা। আবার ভুক্তভোগীদেরই দেওয়া হচ্ছে মামলা আর হামলার হুমকি। এত কিছুর পরও স্থানীয় থানা পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছে না ত্রিশালের আমিরাবাড়ী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। কারণ পুলিশের ওপর তাদের আস্থা নেই। আবার কয়েকজন ভুক্তভোগীকে আগে থেকে আসামি করে রাখায় গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা থানায় অভিযোগ করতে যেতে পারছে না। জানা গেছে, পুরো ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে তাদের ওপর আর আস্থা নেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। তাই তারা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে আমিরাবাড়ী মৌজার সাইনবোর্ড এলাকার ৩১ শতাংশ জমি নিয়ে আবদুর রশীদ আকন্দের সঙ্গে একই এলাকার সবিনুর রহমানের বিবাদ বাধে। পরে উভয় পক্ষ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা করে। ওই জমি ২০১০ সালে আবদুর রশীদ আকন্দ ও তাঁর ভাইয়েরা বিক্রি করেন ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ভুট্টো ও তাঁর স্বজনদের কাছে। এরপর ওই জমিতে মার্কেট নির্মাণ করেন আনিছুর রহমান ভুট্টো। কিন্তু থেমে থাকেনি প্রতিপক্ষ। আদালতে মামলা-মোকদ্দমা করে কোনো ফল না পেয়ে ইতালিপ্রবাসী সবিনুরের স্বামী মোখলেছুর রহমান প্রশাসনকে ব্যবহার করে জায়গাটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যায়। গত ২১ আগস্ট ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ভুট্টোকে ডিবি ও ত্রিশাল থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে আটক করে। আটকের পর তাঁকে জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এতে রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট একসঙ্গে দুটি চাঁদাবাজি মামলা করা হয়। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় চেয়ারম্যানকে। তবে মামলা সূত্রে জানা যায়, দুটি ঘটনায় গত জুন ও জুলাই মাসের। এরপর চেয়ারম্যানকে জেলে রেখে ২৪ ও ২৫ আগস্ট আরো দুটি লুটপাট ও চাঁদাবাজির মামলা নেয় পুলিশ। লুটপাট ও চাঁদাবাজির ওই চার মামলায় গ্রেপ্তার হন চেয়ারম্যানের কাছে জমি বিক্রেতা আবদুর রশীদ আকন্দের ছেলে মঞ্জুরুল হক ওরফে মন্টু, চেয়ারম্যানের ভাই আসাদুল ও ফুফাতো ভাই কামাল হোসেন। 

এদিকে চেয়ারম্যানকে আটকের পর গত শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই মহাসড়কসংলগ্ন এ মার্কেট দখলের জন্য বুলডোজার দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেয় মোখলেছুর রহমান ও তার সহযোগীরা। সকালে খবর পেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বজনরা মার্কেট এলাকায় এলে তাঁদের দোকানগুলো ভাঙা দেখতে পান। ব্যবসায়ীরা তাদের মালপত্রও হারায়। এ সময় অনেক ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। সহায়-সম্বল হারিয়ে কেউ কেউ মূর্ছা যায়। কিন্তু ঘটনাস্থলে দখলদারদের উপস্থিতির কারণে তারা প্রতিবাদটুকুও করতে পারেনি।

জানা গেছে, মার্কেটের ব্যবসায়ী প্রীতি ইন্না গার্মেন্টের মালিক মনির চাঁদাবাজির মামলায় পলাতক। মার্কেট ভাঙচুরের খবর পেয়ে মনিরের মা মালপত্র রক্ষা করার জন্য ছুটে আসেন। কিন্তু দোকানের কোনো মালপত্র দেখতে না পেয়ে আহাজারি শুরু করেন। কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, পুলিশের ওপর আস্থা না থাকায় তাঁরা আদালতের আশ্রয় নেবেন। মানবাধিকার কমিশনেও তাঁরা আবেদন করবেন। তাঁরা আশা করেন, শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কাছ থেকে তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন।

ত্রিশাল থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, মার্কেটে ব্যবসায়ীদের মালপত্র লুট বা ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপারে কেউ তাঁর কাছে অভিযোগ করেনি। ভুক্তভোগী কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা