kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাজের চেয়ে বিল বেশি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সেতু নির্মাণে ঢিলেমি, অনিয়ম

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী ও আহসান হাবিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাজের চেয়ে বিল বেশি

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় শিব নদীর ওপর তৈরি সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যে ধসে গেছে। রাস্তাটি ঠিক করতে নতুন করে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণকাজে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ঢিলেমির অভিযোগ উঠেছে। এতে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। কাজ দুটি কত দিনের মধ্যে শেষ হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে সেতু এলাকা ঘুরে জানা গেছে, বৃহত্তর রাজশাহীর গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় মরা পাগলা নদীর ওপর ১৫৬ মিটার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি সেতুর দুই পাশে ৬৭৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজও শুরু হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়নে কাজটি ২০১৮ সালের ২ জুলাই শুরু হয়। ১৭ কোটি ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলতি বছরের ৬ জুলাই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেতুটির অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার।

নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় নদীর দুই পারের বাসিন্দাদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলেও জানান দুর্লোভপুর এলাকার বাসিন্দা নাদির আলী। তিনি বলেন, ‘শুনছি, এ বছরের মাঝামাঝি সময় সেতু শেষ হবি। কিন্তু হইলো কুণ্ঠে। হামাদের কষ্ট তো থাইকেই গেলো। কবে যে কাজ শেষ হবি—সেটা কেমনে কমু জি।’ আরেক বাসিন্দা আজমত আলী বলেন, ‘এই সেতুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুই পারের হাজার হাজার বাসিন্দা সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে। কিন্তু কাজ শেষ কবে নাগাদ হবে কে জানে?’

এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সেতুটির নির্মাণকাজের বেজমেন্টের উচ্চতা দরপত্র অনুযায়ী কম করাসহ নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু তার পরও ঢিমেতালে কাজ চলছে। অথচ এরই মধ্যে সাত কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে ঠিকাদার আব্দুল মান্নানকে। নির্মাণকাজ শেষ করতে এখনো কত দিন লাগবে সেটিও বলতে পারেননি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। এখনো ঠিকমতো কাজ বুঝেই নিতে পারিনি। আর কাজে অনিয়ম হয়েছে কি না তা বলতে পারব না।’

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কালিনগর এলাকায় প্রায় ২০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি সেতুর নির্মাণকাজও ঢিমেতালে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২১০ মিটার এই সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ২২ জুলাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে ঠিকাদার আব্দুল মান্নানকে অধিকাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। টাকা নিয়েও কাজে গতি আনতে পারছেন না ঠিকাদার। ফলে সেতুর দুই পারের বাসিন্দাদের দুর্ভোগও লাঘব হচ্ছে না বলে জানান স্থানীয়রা। অন্যদিকে এই সেতু নির্মাণেও নানা অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কালিনগর এলাকার বাসিন্দা মুনসুর আলী বলেন, ‘খুব ধীরে ধীরে কাজ করছে ঠিকাদার। কিভাবে কাজ করছে—তা কেউ জানে না। তবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে না। কষ্ট করেই নদী পার হতে হবে।’

জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী মাসুক-ই-মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি অল্প দিন হলো এখানে যোগদান করেছি। কত টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলতে পারব না। কিন্তু সেতু নির্মাণকাজে কোনো অনিয়মের সুযোগ নাই।’

এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এলজিইডির চাঁপাইনবাবগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগসাজশ করে দুই ঠিকাদার সেতুর নির্মাণকাজের চেয়েও অতিরিক্ত বিল উত্তোলন করেছে। কিন্তু সময় শেষ হয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি।’

জানতে চাইলে এলজিইডির চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘সেতুটির নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে পাইলিংয়ের ভিন্নতা থাকায় একেক জায়গায় একেক রকম হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা