kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মাগুরায় প্রতারকের ফাঁদে ৩০ পরিবার পথে

তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

মাগুরা প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাগুরায় প্রতারকের ফাঁদে ৩০ পরিবার পথে

চাকরি দেওয়ার নাম করে এভাবেই চাকরিপ্রার্থীদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় (বাঁয়ে), জালিয়াতির মাধ্যমে অফিস আদেশও দেওয়া হয়। ইনসেটে প্রতারক সুমন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সচিবালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক, ব্যক্তিগত সহকারীসহ নানা পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মাগুরার অন্তত ৩০ বেকার যুবকের কাছ থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে শহরের দোয়ারপাড়ের সুমন নামের এক যুবকসহ সচিবালয়ের একটি প্রতারকচক্র। চাকরি না পেয়ে টাকা খুইয়ে এসব পরিবার এখন পথে বসেছে। অন্যদিকে পাওনা টাকার জন্য অভিযুক্ত সুমনের পরিবারের কাছে বারবার ধরনা দিয়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এরই মধ্যে কেউ কেউ এ ব্যাপারে আদালতে মামলা করেছেন। এ ধরনের একটি মামলায় র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে সুমন।

ভুক্তভোগীদের একজন মাগুরা শহরের মীরপাড়ার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন। তিনি মাগুরা সদর আমলি আদালতে সম্প্রতি মামলা করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে মাহবুবুল আলম হাসানকে সচিবালয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দোয়ারপাড়ের ইছহাক আলীর ছেলে শাহিনুর কাদির সুমন ১০ লাখ টাকা নেয়। এ ছাড়া মাগুরা সদরের রূপাটি গ্রামের ওহাব মোল্যার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, একই গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে তানভির, একই গ্রামের ছানোয়ার আলী, ঝিনাইদহের শ্রীফলতলা গ্রামের আবু সাঈদ আল ইমরান, মাগুরা সদরের বাগিয়া গ্রামের শাহিনুর রহমান, মাঝাইল গ্রামের আবব্দুল্লাহ আল মামুন ও হাজীপুর গ্রামের ইমরান সিদ্দিকের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোট ৭৯ লাখ টাকা নেয়।

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে নগদ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে তাঁরা এসব টাকা সুমনকে দেন। এ সময় সুমনের ভাই মাহাবুবুল কাদির সাগরসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিল। একই বছরের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত সুমন আটজনকে চাকরিতে যোগদানের জন্য আলাদা নিয়োগপত্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সচিবালয়ের উপসচিব ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ দেয়। এসব নিয়োগপত্র ও অফিস আদেশ পেয়ে ভুক্তভোগীরা সচিবালয়ে গেলে অভিযুক্ত সুমন সেখানে কোনো অফিস দপ্তর কিংবা কাজ নির্ধারণ করে না দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাতে থাকে। এতে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখায় যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে এসব কাগজপত্র জাল বলে চিহ্নিত হয়। এ সময় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এর কোনো সদুত্তর না দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হবে না মর্মে জানায়। পাশাপাশি এ ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে আবার যোগাযোগ করলে তাঁদের খুন করে লাশ গুম করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। পরে কোনো উপায় না পেয়ে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।

মাগুরা শহরের পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিন কাশেম জানান, তিনি তাঁর বোন নুরুন্নাহার ও শফিকুল ইসলাম অন্য এক পরিচিত ব্যক্তির চাকরির জন্য ২০১৭ সালে সুমনকে ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন। পরে অভিযুক্ত সুমন ভুয়া নিয়োগপত্র ও অফিস আদেশের মাধ্যমে একইভাবে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এ ব্যাপারে তিনি অভিযুক্ত সুমন, সচিবালয়ের পিয়ন শফিকুল ইসলাম (সচিব সেজে ইন্টারভিউ গ্রহণকারী), মোর্তজা রনি (সচিবের একান্ত সহকারী পরিচয় দানকারী)—এ তিনজনের নামে ঢাকার মিরপুর ২ নম্বর মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলায় গত ২ আগস্ট সুমন র‌্যাবের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে।

মোসলেহ উদ্দিন কাশেম বলেন, ‘সুমন আমার বোন নুরুন্নাহারকে সচিবালয়ে নিয়ে সার্ভিস বুক খুলে বেশ কিছুদিন কাজ করিয়েছে। এমনকি এক মাসের বেতন পর্যন্ত দিয়েছে। আঙুলের ছাপ নিয়েছে।’

মাগুরা সদর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে যথাসময়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা