kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খুলনায় থানাহাজতে দলবদ্ধ ধর্ষণ

পুলিশের তদন্ত শেষ হচ্ছে না

খুলনা অফিস   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশের তদন্ত শেষ হচ্ছে না

রেলওয়ে থানা হাজতে আটকে রেখে এক নারীকে (৩০) দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও তা শেষ হওয়ার পর পুলিশ প্রথম দফায় আরো ১৫ দিন সময় চেয়েছে। বর্ধিত সময়ও শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদন জমা পড়েনি।

রেলওয়ে থানায় দায়ের করা মামলা ও আদালতে দেওয়া ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা গৃহবধূকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে আটক করে। গভীর রাতে জিআরপি থানার ওসি উছমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাঁকে ধর্ষণ করে। পরদিন ৩ আগস্ট তাঁকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে খুলনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট শুনানিকালে গণধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন তিনি। এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ৯ আগস্ট পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারক) আইন ২০১৩-এর ১৫ ধারায় জিআরপি থানায় মামলা হয়। তা ছাড়া তিনি আদালতেও জবাববন্দি দেন। এ ঘটনায় পুলিশের দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এর একটি কমিটি গঠন করা হয় ৫ আগস্ট। এই কমিটির সভাপতি রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম। আরেক তদন্ত কমিটি পুলিশ সদর দপ্তরের। এই কমিটির প্রধান পুলিশ সুপার (এসপি) সেহেলা পারভীন। দুটি কমিটির প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও গত ১৩ আগস্ট প্রতিবেদন দিতে তারা আরো ১৫ দিন সময় চায়।

অন্যদিকে ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্ত পরিদর্শক উছমান গণি পাঠান ও উপপরিদর্শক নাজমুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী নারী জামিনে রয়েছেন।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের চিকিৎসা কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার চক্রবর্তীর কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন কি না তাও জানাননি।

রেলওয়ে পুলিশের তদন্ত কমিটির সভাপতি ও কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ গত রবিবার দুপুরে বলেন, ‘ওই নারীর স্বাস্থ্য প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়েছে। গত ১৯ আগস্ট প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছি। কিন্তু হাতে পাইনি। পেলে পর্যালোচনা করে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সত্য ও সঠিক বিষয় উদ্ঘাটনের জন্য পারিপার্শ্বিক সব বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। কেউ অপরাধী ও অভিযুক্ত হলে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের কোনো তদন্ত কমিটিই এখনো প্রতিবেদন দেয়নি। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের সত্যতার অনেক প্রমাণ রয়েছে। আমরা এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা