kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আওয়ামী লীগ দুই টুকরা

আলফাডাঙ্গায় ৩৬ নেতাকর্মী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন হেরে গেছেন। দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ৩৬ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কার্যত সংগঠনটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের অভিযোগ, দলীয় প্রার্থীর পরাজয় এবং বিভক্তির পেছনে ফরিদপুর-১ (মধুখালী-আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনজুর হোসেন বুলবুলের ভূমিকা রয়েছে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করেন এবং অনেকে নৌকার বিপক্ষে কাজ করেন। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে ফরিদপুর-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক সিনিয়র সচিব এবং রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন বুলবুল। উপজেলা নির্বাচনে আকরাম দলীয় মনোনয়ন পেলে একাধিক নেতা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর থেকেই দ্বন্দ্ব-সংঘাত প্রকাশ্য রূপ নেয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ বড় একটি অংশ একদিকে থাকে। অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম আহাদুল হাসানের নেতৃত্বে আরেক পক্ষ রয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নৌকার বিরোধিতাকারী নেতাকর্মীদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি ও কেন স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হবে না মর্মে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ ৩৬ জনের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম এম জালাল উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম আহাদুল হাসান, সহসভাপতি শেখ আকরামুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য এ কে এম জাহিদুল হাসান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আহসানউদ্দৌলা রানা প্রমুখ।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন অভিযোগ করেন, মনজুর হোসেন এমপি হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমপির সমর্থকরা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করার কারণে তিনি হেরে গেছেন। এমপি ও তাঁর সমর্থকরা সরাসরি বিদ্রোহী প্রার্থী জাহিদের নির্বাচন করেছেন। ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে সভা করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রার্থী ঠিক করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এমপি কারো সঙ্গে সভা বা সমন্বয় না করে টিআর-কাবিখা ভাগ করে দিচ্ছেন। দলীয় সভা বা সমাবেশে অংশ নেন না।’

প্রায় একই অভিযোগ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল বাশার। তিনি  বলেন, ‘যারা কোনো দিন নৌকায় ভোট দেয়নি। তারা দলকে দ্বিধাবিভক্ত করার চেষ্টা করছে।’

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে যারা নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছে, এমপি তাদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ান।’

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘এমপি উপজেলা আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করে রেখেছেন।’

অন্যদিকে এমপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘উপজেলার ৯৫ ভাগ লোক যেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থন করে সেখানে নৌকা হারল কেন? ভুল প্রার্থী নির্বাচন করায় নৌকা হেরেছে। নৌকার প্রার্থী আকরাম হোসেনের তেমন জনপ্রিয়তা নেই। দলকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে সভাপতিই আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করেছেন।’

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম আহাদুল হাসান বলেন, ‘আলফাডাঙ্গা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধই আছে। শুধু ভাগ হয়ে গেছেন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক।’

এমপি মনজুর হোসেন বুলবুল বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করার প্রশ্নই ওঠে না। উপজেলা আওয়ামী লীগ বিভক্ত হওয়ার জন্য আমি দায়ী নই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা