kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রহ্মপুত্র থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ ও পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বালুমহালের সীমানা মানছে না বেপরোয়া ইজারাদাররা। বালু তোলার নামে ব্রহ্মপুত্র নদ তছনছ করছে তারা। নিজেদের ইচ্ছামতো ব্রহ্মপুত্রের বিশাল এলাকা থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে ইজারাদারের লোকজন। দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চললেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে বালু তোলার কারণে নদের আশপাশের কৃষকের জমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তা ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের তীরসংলগ্ন বেশ কিছু এলাকায় ভাঙনও দেখা দিয়েছে। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশেরও। ভুক্তভোগী লোকজন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ইজারাদারের বিরুদ্ধে।

জেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে, উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদ এলাকার চরকাওনা, চরলক্ষ্মীয়া, চরতেরটেকি ও চরমির্জাপুর বালুমহালের মধ্যে কেবল চরকাওনা ও চরলক্ষ্মীয়া মৌজার ৭৬.১১ একর জায়গা বালু তোলার জন্য ইজারা দেওয়া হয়। গত ১২ মার্চ চরকাওনা গ্রামের বিল্লাল হোসেন এক বছরের জন্য ৪৯ লাখ টাকায় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নেন এ বালুমহাল। কিন্তু তিনি লোকজন দিয়ে ইজারাবহির্ভূতভাবে মির্জাপুর এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকেও বালু তুলে অবাধে ব্যবসা করছেন।

এলাকাবাসী জানায়, তিন মাস ধরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। ওই বালু প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক দিয়ে পাকুন্দিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকার লোকজন দলবদ্ধ হয়ে অবৈধ বালু তোলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে কিছুদিন বালু তোলা বন্ধ ছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার বালু তোলা শুরু করে ইজারাদারের লোকজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন বালু ব্যবসায়ী বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে বিল্লাল হোসেন ও তাঁর সহযোগী আলমগীর তিন মাস ধরে অবৈধভাবে বালু তুলছেন। তাঁদের ধারণা, এ তিন মাসে তাঁরা কোটি টাকার বালু বিক্রি করেছেন।

চরফরাদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, মির্জাপুর এলাকা ইজারাবহির্ভূত। জেলা প্রশাসন এ এলাকা ইজারা দেয়নি। তবে ইজারাদার বিল্লাল  বলছেন, যে এলাকা নিয়ে কথা উঠেছে, সে এলাকাটিও ইজারার অন্তর্ভুক্ত। ইজারাদারের সহযোগী আলমগীর হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে লোকজনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো মিথ্যা ও বানানো অভিযোগ।

পাকুন্দিয়ার ইউএনও মো. নাহিদ হাসান বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা