kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাঁচবিবিতে অনিয়মের প্রকল্প

কালভার্টের বদলে রিং পাইপ

সুমন চৌধুরী, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট)   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ না করার পাশাপাশি নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় পর্যায়ে আটটির মধ্যে তিনটি ইউনিয়নে এখনো কাজ শুরুই হয়নি। তা ছাড়া পাঁচটি ইউনিয়নে কাজ শেষ হলেও তা নিম্নমানের হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার দাবি, সময়মতো ও নিয়ম মেনে কাজ না করায় প্রকল্প সভাপতিদের টাকা দেওয়া হয়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় দক্ষ উপকারভোগীর মাধ্যমে কুসুম্বা ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ে ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে সারারপাড়া ঈদগাহ মাঠের রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তা ছাড়া বাশখুর পূর্বপাড়া আবদুল মান্নান বুলু মাস্টারের বাড়রি পূর্ব পাশে ৩৯ হাজার ৭৮৮ টাকা ব্যয়ে রাস্তায় ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প থাকলেও তা না করে কাজ সমাপ্তের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে প্রকল্প অফিসে। একই নামে এই প্রকল্প উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় (এডিপি) নির্মাণ করা হয়। একই ইউনিয়নে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে মটপাড়া মিল ঘরের উত্তর পাশে কালভার্ট নির্মাণ না করে পুরনো কালভার্টের ওপরের পাটাতন তুলে নতুন পাটাতন তৈরি করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, কালভার্টের দুই পাশে রেলিং দেওয়া হয়নি। রহমতপুর কবরস্থান এলাকায় ফজলুর জমির পাশে রাস্তায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে কালভার্ট নির্মাণ না করে সিমেন্টের রিং পাইপ দেওয়া হয়। আয়মা রসুলপুর ইউনিয়নের জামালপুর মান্নান মাস্টারের বাড়ির কাছে রাস্তায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে পুকুরপাড় প্যালাসাইডিংয়ের কাজ শুরুই হয়নি। এলাকার অটো ভ্যানচালক মাহাবুব ও তাঁর পরিবারের লোকজন নিজেদের উদ্যোগেই রাস্তার ধারে পুকুরপাড়ে বাঁশের মাচা দিয়ে চলাচল করছে। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কেওতা গ্রামের শফিকুলের বাড়ির সামনে ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্প থাকলেও তা করা হয়নি। এলাকাবাসী নিজেরাই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে।

তা ছাড়া বাগজানা, ধরঞ্জি, আটাপুর, বালিঘাটা ও আওলায় ইউনিয়নে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে সমাপ্ত কালভার্ট ও ড্রেনের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কালভার্টের দুই পাশে রেলিংও দেওয়া হয়নি।

ইজিপিপি কাজের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী রায়হান শরীফ অনিয়মের কথা স্বীকার করে জানান, সব প্রকল্প সঠিকভাবে যাচাই করা যায় না। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম হলে অন্য প্রকল্পে সেটা ঠিক করা হয়। তিনি আরো জানান, ইউপি চেয়ারম্যানরা সব নির্দেশনা মানেন না।

অর্থবছর শেষ হলেও কাজ শুরু না করার বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছা. নুর এ মেফা জানান, প্রকল্পের টাকা উঠিয়ে অন্য হিসাবে রাখা আছে। সব অনিয়ম দূর করে চলতি মাসেই কাজ শেষ না করলে কোনো টাকা ছাড় করা হবে না। তিনি আরো জানান, কেউ কাজ না করলে আগামীতে কোনো প্রকল্পের কাজ পাবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা