kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সেতু আছে সড়ক নেই

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সেতু আছে সড়ক নেই

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হেমেরকুঠি গ্রামে দুই বছর আগে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়। দুই মাসের মাথায় বন্যায় সংযোগ সড়ক ভাঙলেও তার পুনর্নির্মাণ হয়নি। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের হলোখানা এলাকার হেমেরকুটি গ্রামে একটি সেতু উদ্বোধনের দুই মাসের মাথায় সংযোগ সড়ক ভেঙে গিয়ে পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। গত দুই বছরেও সেতুটির সংযোগ সড়ক মেরামতের কোনো উদ্যোগে না নেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে জেলার ধরলা নদীতীরের পাঁচ গ্রামের মানুষ।

জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতাধীন হলোখানা ইউনিয়নের হেমেরকুটি গ্রামে ২০১৭ সালে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের এই সেতুটি নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সেতুটি উদ্বোধনের মাত্র দুই মাসের মাথায় ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। বন্যায় সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এর পর থেকে সংযোগ সড়কের সংস্কার না করায় সেতুটি কোনো কাজে আসছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়েও সুফল মেলেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তা থেকে সেতুটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। বর্ষায় নৌকায় চলাচল করলেও এখন সেতুর নিচের আবাদি জমি দিয়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে লোকজনকে।

খামার হলোখানা গ্রামের মমিনুল ইসলাম মণ্ডল জানান, সেতুটি চালুর পর হেমেরকুঠি, খামার হলোখানা, বড়াইবাড়ী, আঠারঘরিয়া ও লক্ষ্মীকান্ত গ্রামের দেড় হাজার পরিবারের সাত হাজার মানুষ জেলা সদরসহ হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালে দ্রুত যেতে পারত। কিন্তু দুই মাসের মাথায় সেতুটি অকার্যকর হওয়ার পর এসব এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। কেউ সেতুটি দেখতেও আসেনি।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বানদ্দি মামুদ জানান, সেতুর ওপর দিয়ে কোনো মালপত্র আনা-নেওয়া করতে না পারায় তাঁদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। হেমেরকুঠির চটকু মামুদ বলেন, ‘দেখেন না দুইপাকে কেমন খাল হয়া আছে। এলা মই দিয়া ব্রিজোত চরা খায়।’ এলাকার যুবক মতিউর রহমান বলেন, ‘সেতু যদি কাজেই না লাগে, তাহলে এত টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণের কোনো প্রয়োজন ছিল না।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ফিজানুর রহমান বলেন, ‘বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি। ফলে সেতুর দুই পাশের ভাঙা সড়ক মেরামত করা যায়নি। তবে দ্রুত সংযোগ সড়ক মেরামত করে সেতুটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা