kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার পথে রেলসুবিধা বঞ্চিত নীলফামারীবাসী

ভুবন রায় নিখিল, নীলফামারী   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নীলফামারী থেকে ঢাকা চলাচলের ক্ষেত্রে রেলপথের চাহিদা বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় নীলফামারীবাসী সুবিধাবঞ্চিতই রয়ে গেছে। এ পথে এখনো নীলসাগর এক্সপ্রেস নামের একটিমাত্র ট্রেন চলাচল করছে, যা চাহিদা পূরণ করতে পারছে না জেলার মানুষের। জেলা শহরসহ সৈয়দপুর, ডোমার ও চিলাহাটি স্টেশনে ট্রেনটির বরাদ্দ আসন কম থাকায় টিকিটের হাহাকার লেগেই আছে। এসব স্টেশনে চাহিদার তুলনায় গড়ে টিকিট মেলে চার ভাগের এক ভাগ।

এ জেলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের দাবিগুলোর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন অন্যতম। আর নিরাপদ ভ্রমণে রেলপথের উন্নয়নের দাবি অনেক পুরনো। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হয়নি দীর্ঘদিনেও। ব্রিটিশ আমলে উল্লেখযোগ্য রেলপথ হলেও এ জেলা থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটির মাধ্যমে সরাসরি ঢাকার সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। ওই সময় ট্রেনটি জেলার সীমান্ত এলাকা চিলাহাটি স্টেশন থেকে চলাচলের দাবি থাকলেও জরাজীর্ণ রেলপথের অজুহাতে রাতে সৈয়দপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাত সকালে। আর সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে সৈয়দপুর এসে পৌঁছাত সন্ধ্যায়। এর আট বছর পর ট্রেনটি ২০১৫ সালে চলাচল শুরু করে জেলার সীমান্ত স্টেশন চিলাহাটি থেকে। ট্রেনটি চিলহাটি পর্যন্ত চালু হলেও আসনসংখ্যা সীমিত থাকায় ভোগান্তি কমেনি এলাকার মানুষের।

এলাকাবাসী জানায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে চিলাহাটি স্টেশনে ট্রেনটির চলাচলের উদ্বোধন করেন সেই সময়ের রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। ওই সময়ের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য বর্তমান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন উপস্থিত ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময়ের রেলমন্ত্রী চিলাহাটি-ঢাকা পথে দিবাকালীন আরেকটি আন্ত নগর ট্রেন চালুর ওয়াদা করেছিলেন। সরকারের চলতি মেয়াদের শুরু থেকে ঢাকা-রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড় পথে যুক্ত হয়েছে একাধিক ট্রেন। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছরেও রেলমন্ত্রীর দেওয়া সেই ওয়াদা পূরণ হয়নি।

নীলফামারী রেলস্টেশন সূত্র জানায়, জেলার চিলাহাটি থেকে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীতে পাঁচটি আন্ত নগর ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে নীলসাগর ঢাকার উদ্দেশে, রূপসা ও সীমান্ত খুলনার উদ্দেশে, তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে যায় রাজশাহীর উদ্দেশে। চিলাহাটি থেকে ছাড়ার পর এসব ট্রেনের বিরতি আছে ডোমার, নীলফামারী ও সৈয়দপুর স্টেশনে। ওই পাঁচ ট্রেনের মধ্যে উপচে পড়া যাত্রী থাকে ঢাকাগামী একমাত্র নীলসাগর ট্রেনটিতে।

জেলার ডোমার উপজেলার রেল রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ আইয়ুব জানান, বর্তমানে জেলার বেশির ভাগ মানুষ ঢাকামুখী। কর্মসংস্থান ও ব্যাবসায়িক কাজে ঢাকার প্রয়োজন বেশি। এর বাইরে বিভিন্ন অফিস-আদালতের কাজ রয়েছে। বেশি মানুষের প্রয়োজন যেখানে, সেখানে চলাচল করছে নীলসাগর নামে মাত্র একটি ট্রেন। ওই ট্রেনে চিলাহাটিতে এসি চেয়ার ১০টি, এসি বাথ দুটি, সাধারণ ৯০টি; ডোমারে এসি চেয়ার ১০টি, এসি বাথ দুটি, সাধারণ ৭৫টি; জেলা শহরের নীলফামারী স্টেশনে এসি চেয়ার পাঁচটি, এসি বাথ দুটি, সাধারণ ৯০টি এবং সৈয়দপুরে এসি চেয়ার ২৫টি, এসি বাথ ১০টি, সাধারণ ১২০টি আসন বরাদ্দ আছে। সে তুলনায় চাহিদা আরো কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় টিকিট না পেয়ে যাত্রীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

গোলাম কুদ্দুছ আইয়ুব আরো বলেন, ‘ঢাকার পথে আরেকটি ট্রেন চালুর ওয়াদা করেছিলেন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। চিলাহাটিতে নীলসাগর ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওই ওয়াদা করার সময় বর্তমান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছরেও সেই ওয়াদা পূরণ করেননি তিনি। ওই দাবি আদায়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত আছে। আমরা দ্রুত সেটির বাস্তবায়ন চাই।’

নীলফামারীর সামাজিক সংগঠন ভিশন ২০২১-এর প্রধান সমন্বয়ক ও ব্যবসায়ী ওয়াদুদ রহমান বলেন, ‘আমাদের জেলার উন্নয়নের প্রধান বাধা যোগাযোগব্যবস্থা।’

নীলফামারী স্টেশন মাস্টার ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহী ও খুলনার পথে দুটি করে আন্ত নগর ট্রেন চলাচল করলেও ঢাকার পথে নীলসাগর নামে একটিমাত্র ট্রেন চলাচল করে। একটিমাত্র ট্রেনে আসন বরাদ্দ কম থাকায় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা