kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাঙ্গাবালী প্রাণিসম্পদ দপ্তর

চকচকে ভবন আছে সেবা নেই

৯ পদে দুজন কর্মরত, প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য! ♦ গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসা মিলছে না

এম সোহেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চকচকে ভবন আছে সেবা নেই

চকচকে ভবন, কোনো মানুষ নেই। ঝুলছে তালা। সরকারি অফিস হলেও সেবা পাচ্ছে না এলাকাবাসী। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ের ছবিটি গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

অনেকটা কাগজে-কলমে চলমান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম। নতুন চকচকে একটি কার্যালয় ভবন থাকলেও গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি রোগাক্রান্ত হলে প্রতিকারে চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা মিলছে না। ফলে পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থাকলেও মিলছে না গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসা।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ উপজেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কার্যালয়ের জন্য দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেখানে তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। শুধু কাগজ আর কলমে কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে ৯টি পদের কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা। কিন্তু এখানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পূর্ণাঙ্গ পদসহ সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। শুধু উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অমল চন্দ্র শীল ও ড্রেসার বাবুল খান কর্মরত রয়েছে। আর কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান এ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে সড়কের দক্ষিণ পাশে স্থাপিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। আশপাশে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউই নেই। কার্যক্রম চলার কোনো নমুনাও সেখানে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রচুর মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগি পালন করা হয়। এর মধ্যে কমপক্ষে গরু ও মহিষ রয়েছে ৩০ হাজার। বর্ষা মৌসুমে ওই সব গবাদি পশুর ক্ষুরা রোগ ও হাঁস-মুরগির বিভিন্ন রোগবালাই হয়ে থাকে। তখন রোগ প্রতিকারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা না পেলে বিপাকে পড়তে হয় মালিকদের।

উপজেলার বাহেরচর বন্দরের বাসিন্দা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, ‘বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে গবাদি পশু খুরাচালসহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় পরামর্শ বা চিকিৎসা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এ ছাড়া হাঁস-মুরগির বিভিন্ন রোগবালাই হলেও প্রতিকার পাওয়া যায় না।’ উপজেলার তক্তাবুনিয়া গ্রামের শাহ আলম বলেন, ‘অফিস আছে, সেবা নেই। এতে লাভ কি? থাকা না থাকা তো সমানই হলো।’

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত কলাপাড়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘রাঙ্গাবালী অফিসে দুজন কর্মরত আছেন। আমাদের লোকবল সংকট। এখানে বারবার অফিসার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কাউকে আনতে পারছে না! ওখানে ভ্যাকসিনসহ সব সেবা চালু হয়েছে। অফিসে লোক পাওয়ার কথা, কেন তাদের পাওয়া গেল না আমি জিজ্ঞেস করব। ’

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখানে ৯ জন স্টাফ থাকার কথা, আছে দুজন। কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আমরা বারবার আবেদন জানিয়েছি। মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা