kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রভাবশালীদের দখলে আট একর খাসজমি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রভাবশালীদের দখলে আট একর খাসজমি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলীয়ায় সরকারি জলাশয়কে কৃষিজমি দেখিয়ে দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলীয়া ইউনিয়নে পৌলশুরা মৌজার প্রায় আট একর সরকারি খাসজমি ভুয়া দলিল ও ভুয়া বন্দোবস্তের মাধ্যমে প্রভাবশালী কয়েকজন দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দৃশ্যমান বিশাল জলাশয় হলেও দখলদাররা ওই জমিকে কৃষি ও নাল জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত নিয়েছে। এমনকি ওই জমির কিছু অংশ বিক্রি করে দিয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সাটুরিয়া ভূমি অফিস থেকে তদন্তে প্রাথমিকভাবে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

দিঘলীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি গত ৪ এপ্রিল ওই জমির অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে মানিকগঞ্জ জেলা যখন মহকুমা ছিল তখন আ. খালেক ও আনোয়ারুল হক ভূমিহীন হিসেবে ওই খাসজমি বন্দোবস্ত নেন। বন্দোবস্ত দলিলে কৃষিজমি দেখালেও রেকর্ডে বিল। তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাঁরা এই জমি বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। নিজেদের ভূমিহীন দেখালেও প্রকৃতপক্ষে তাঁরা বিত্তবান ও প্রভাবশালী। অভিযোগে বলা হয়েছে, বন্দোবস্ত পাওয়ার কিছুদিন পর ওই জমির কিছু অংশ বিক্রি করে দেওয়া হয় আ. রশিদ ও মোন্তাজ আলীর কাছে। পরে ১৯৭৭ সালে ওই জমি আবার নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেন। তিনি ওই ভুয়া বন্দোবস্ত ও ভুয়া রেকর্ড বাতিল করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত করে গেজেট প্রকাশের জন্য আবেদন করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই সরেজমিনে তদন্ত করে দিঘলীয়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আজহার আলী সাটুরিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। যদিও প্রতিবেদনে দখলদার কিংবা বন্দোবস্ত পাওয়া কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে তিনি বলেন, উল্লিখিত জমির সিএস রেকর্ডে ভূমির শ্রেণি নদী ছিল। এসএ রেকর্ডে জমির শ্রেণি রাস্তা, বিল উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আরএস রেকর্ডে ওই জমির শ্রেণি দেখানো হয়েছে বোর, বিল ও নাল হিসেবে। তবে সরেজমিনে তদন্ত করার দাবি করে তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বর্তমানে ওই জমি বিশাল জলাশয়ের মতো দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমে যা বিলের আকার ধারণ করে।

ওই জমির বর্তমান দখলদারদের মধ্যে আইয়ুব আলী নামের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাবা মতিউর রহমান সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের লিজ নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনিসহ মোট আটজন ওই জমি ভোগদখল করছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা ওই জমির রের্কডভুক্ত মালিক বলেও তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে কুলসুম শম্পা বলেন, ‘আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ফিরতি কোনো নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি।’

প্রসঙ্গত, ভূমি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সারা দেশে কৃষি, অকৃষি খাসজমির পরিমাণ ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬৮ একর। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ খাসজমি বেদখল। ২০১৭ সালের অক্টোবরে জাতীয় কৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বেদখল জমি উদ্ধারের নির্দেশ দেওয় হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা