kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রক্ষক যখন ভক্ষক

বেতাগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষকের কাছে জিম্মি কর্মচারীরা

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রক্ষক যখন ভক্ষক

বরগুনার বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হাসপাতালের কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলাম আগের মতোই বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পেয়ে গত ২০ জুন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন বেতাগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। সংসদ সদস্যের পরিদর্শনে সরকারি অফিস ভাড়া দিয়ে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের সত্যতা পান। এ ঘটনায় তিনি রফিকুল ইসলামকে এক মাসের মধ্যে বেতাগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারণে রফিকুল ইসলাম এখনো এ হাসপাতালে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

হাসপাতালের ভুক্তভোগী কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে রফিকুল ইসলাম বেতাগী হাসপাতালের  হিসাবরক্ষক-কাম-প্রধান সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। এর পর থেকে তিনি নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তাঁদের নামে আসা কাগজপত্র গোপন করে হয়রানি করা—এখন তাঁর নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুর রশীদ এসবের প্রতিবাদ করায় তাঁকে বাবুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়।

সূত্র মতে, রফিকুল ইসলামের বাড়ি বেতাগী উপজেলায় হওয়ায় এসব দুর্নীতিতে খুব সহজেই জড়িয়ে পড়ছেন। এনসিডি প্রশিক্ষণ ও কমিউনিটি ক্লিনিকের অনুকূলে বরাদ্দ মাতৃদুগ্ধ দিবসের টাকা আত্মসাতের কারণে ২০১৭ সালে প্রশাসনিকভাবে তাঁকে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের আশ্রয় নিয়ে ছয় মাসের জন্য বদলি স্থগিত করে হাসপাতালে থেকে যান।

ভুক্তভোগী কর্মচারীরা আরো জানান, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগদান ও বদলির ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য তাঁকে উেকাচ দিতে হয়। নানা অজুহাত দেখিয়ে কর্মচারীদের বেতন থেকে প্রতি মাসে তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। শুধু তা-ই নয়, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনোদনের ছুটি মঞ্জুর ও অর্থ ছাড় করাতে তাঁকে বরাদ্দের অর্ধেকটাই দিতে হয়। এ ছাড়া হাসপাতালের সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দে বিভিন্ন কর্মচারীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নিচ্ছেন তিনি। প্রতি জুন মাসে অফিসের আনুষঙ্গিক খরচের ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে ও হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে ঠিকমতো কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করছেন। ইমার্জেন্সি সহকারী জাহিদ হোসেনের কাছ থেকে হাসপাতালের অফিসকক্ষ ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে এক হাজার টাকা আদায় করলেও তা সরকারি খাতে জমা না দিয়ে নিজের পকেটে পুরছেন। এভাবে প্রতিনিয়ত কর্মচারীরা নির্যাতিত হয়ে এলেও ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না তাঁরা।

এসব বিষয়ে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের কাছে ২০১৮ সালে কয়েকজন কর্মচারী লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাকেরগঞ্জের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্ত সাপেক্ষে এর সত্যতা পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা শাখায় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর আর সেই তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য নয়। প্রতিহিংসাবশত আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং বলেন, হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এরই মধ্যে অবহিত করছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা