kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মুরাদনগর

আট মাসে ৩৮ প্রতিষ্ঠানে আগুন

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বদিউল আলম একজন মুক্তিযোদ্ধা। সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর নিয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর সদরে দোকান দিয়েছেন। দোকানে অকটেন, ডিজেল, পেট্রল, মবিলসহ মোটরসাইকেলের বিভিন্ন পার্স বিক্রি করতেন। তেলে ভেজাল ছিল না বলে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে এই দোকান থেকে তেল নিত। তাঁকে শুরুতে আর্মি আলম বা মুক্তিযোদ্ধা আলম নামে ডাকলেও পরে তিনি তেলের সুনামের কারণে তেল দোকানের আলম বলেই পরিচিতি পান।

গত শনিবার রাত ১টায় আগুনে দোকানের সব পুড়ে ছাই। শুধু তা-ই নয়, পাশের অটো ওয়ার্কশপে থাকা ছয়টি মোটরসাইকেলও পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় রক্ষা পায় আশপাশের বসতবাড়ি। ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, আগুনের সূত্রপাত যেখানে, সেখানে বিদ্যুতের তার বা সুইচবোর্ড ছিল না। তবে তিন দিন হলেও এ ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়নি।

মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত আট মাসে ৩৮টি প্রতিষ্ঠান বা দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যার বেশির ভাগ ঘটনাই বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস অফিস।

স্টেশন অফিসার বিলাল হোসেন বলেন, মুরাদনগর ও কোম্পানীগঞ্জ বাজারে প্রায় তিন হাজার দোকান রয়েছে। কিন্তু ২০-২৫টি দোকানে ফায়ার এক্সটিংগুইসার (অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র) আছে। আর বৈদ্যুতিক লাইন সংযোগ নেওয়ার পর আর মেরামত বা চেক করে না অনেকেই। ফলে শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাস জানান, আগুন লাগার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।

মুরাদনগর ও কোম্পানীগঞ্জ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, আগুনের সঠিক সূত্রপাত জানতে পারলে সেই বিষয়ে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। সব আগুনের সূত্রপাত শর্টসার্কিট থেকে, তা মানতে তিনি নারাজ। ব্যবসার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য বা শত্রুতার জের ধরেও এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তথ্য-প্রমাণ না থাকায় ভুক্তভোগীরা বিচার চাইতে পারে না। আবার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনেও কেউ এগিয়ে আসে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা