kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ময়মনসিংহে চালকদের কাছে জিম্মি পরীক্ষার্থীরা

সুযোগ বুঝে আদায় করা হয় চার-পাঁচ গুণ ভাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ময়মনসিংহে চালকদের কাছে জিম্মি পরীক্ষার্থীরা

বিভাগীয় শহর হওয়ার কারণে ময়মনসিংহ নগরে এখন প্রায়ই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। বেশির ভাগ সময় শুক্রবারই বিভিন্ন দপ্তরের পরীক্ষা থাকে। পরীক্ষা দিতে শত শত চাকরিপ্রার্থীর আগমন ঘটে শহরে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এসব পরীক্ষার্থী ময়মনসিংহ নগরের গাড়িচালকদের হাতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বেশির ভাগ সময় চার-পাঁচ গুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাঁদের। এ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়। এ নগরে পরীক্ষা দিতে এসে অনেকেই এখন তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। কারো কারো মতে, এমন ঘটনায় এ শহরের বদনামও হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের নির্লিপ্ত ভূমিকায় সমালোচনাও হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত শুক্রবার শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ছিল ময়মনসিংহ নগরে। এ বিভাগের অন্য তিনটি জেলাসহ ময়মনসিংহ জেলার পরীক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। প্রায় ৬০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে বলে জানায় জেলা শিক্ষা অফিস। এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বেশির ভাগ পরীক্ষার্থীই শুক্রবার সকালের দিকে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা অন্য কোনো বাহনে এ নগরে আসেন। কিন্তু পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার মুখে পড়েন। নগরে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকগুলো পাঁচ গুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে। একই অবস্থা রিকশাভাড়ার ক্ষেত্রেও। ২০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা চাওয়া হয় পরীক্ষার্থীদের কাছে। অনেক পরীক্ষার্থী বাধ্য হয়েই বাড়তি ভাড়া দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেন। কিন্তু তাঁদের মনে রয়ে যায় বড় ধরনের ক্ষোভ আর ক্ষত।

গত শুক্রবার পরীক্ষা দিতে আসা শারমীন আক্তার নামে একজন বলেন, তিনি ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড থেকে বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গেছেন ৬০ টাকা দিয়ে। এমনিতে এ ভাড়া খুব বেশি হলেও ২০ টাকা।

পাটগুদাম সেতু বাসস্ট্যান্ড থেকে টাউন হল মোড়ে এসেছেন এমদাদুল হক। তিনি বলেন, ইজি বাইকে তিনি ৫০ টাকা দিয়ে এসেছেন। এমনিতে এ ভাড়া বড়জোর ১০ টাকা।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক এ টি এম রবিউল করিম বলেন, তিনি কয়েক মাস আগে তাঁর ভাগ্নি, ভাতিজিসহ পাঁচ-ছয়জনকে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা ফুলপুর থেকে বাসে এসে নামেন ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে টাউন হল পর্যন্ত অটোরিকশার নির্ধারিত ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা। কিন্তু তাঁরা একেকজন ৫০ টাকা করে অটোতে ওঠেন। কোনো অটোই ৫০ টাকার কমে যেতে চাইছিল না। কেউ কেউ আরো বেশি ভাড়া দাবি করছিল।

ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি বলেন, এ নগরে রিকশা ও অটোচালকদের এমন স্বেচ্ছাচারিতা দেখে তাঁরা রীতিমতো বিস্মিত। মনে হয়, এখানে কোনো প্রশাসন নেই। যার যা মন চাইছে তা-ই করছে। অনেকে বলে, এ ঘটনায় ময়মনসিংহ শহরে আগত পরীক্ষার্থীরা একটা খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এতে এ শহরের পাশাপাশি প্রশাসনেরও বদনাম হয়। দেখা গেছে, প্রতিটি পরীক্ষার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, খুব সহজেই এ সমস্যার সমাধান করা যায়। নিয়োগ পরীক্ষার দিন বাসস্ট্যান্ডগুলোতে একজন করে ট্রাফিক সার্জেন্ট ডিউটি দিলেই এ সমস্যার সমাধান ঘটে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন রিকশা ও ইজি বাইক মালিক সমিতিকে ডেকে এ ব্যাপারে কথা বললেও সমস্যার কমবেশি সমাধান হয়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এ কারণে চালকরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘সুযোগ বুঝে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।’ এ ব্যাপারে তিনি চালক ও মালিকদের সঙ্গে দ্রুত কথা বলবেন বলে জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা