kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উদ্ধারের পর ফের অপহরণ

বাজিতপুরে পুলিশের ভূমিকায় পরিবারের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অপহরণ ও ধর্ষিতাকে ২৬ দিন পর উদ্ধার করেছিল পরিবার। সেই মেয়েকে ফের অপহরণ করা হয়েছে। এবার দুই মাস পার হলেও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানার পুলিশ কোনো তৎপরতা দেখায়নি।

মেয়ের করুণ পরিণতির কথা বলতে গিয়ে গতকাল রবিবার মেয়ের মা ও বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মা বলেন, ‘আমার ঝিডারে হেরা নি মাইরালছে!’ মেয়েটিকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য দাবি করেছে পরিবার। গত ১৬ মে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে বাবা মেয়েকে উদ্ধার এবং ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লিখিত আবেদন করেন।

আবেদনে বাজিতপুর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। এরপর প্রায় সাড়ে তিন মাস পার হয়ে গেলেও অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

মামলার কাগজপত্র ঘেঁটে জানা যায়, গত ২১ মার্চ চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে মাইজচরের কাজল মিয়ার ছেলে মইনুদ্দিন। মেয়েটিকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তার বাবা বাজিতপুর থানায় গেলেও পুলিশ কোনো ভূমিকা রাখেনি। মেয়ের খোঁজ পেয়ে পরিবারই তাকে উদ্ধার করে থানায় হাজির করার পর ২৭ মার্চ পুলিশ অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা নেয়।

পরিবার সূত্র জানায়, মইনুদ্দিনের মামা চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি দিলালপুরের খাটেরার বাচ্চু মিয়া, মইনুদ্দিনের ভাই রশিদ ওরফে উষ্টা, দুই বোন হামিদা ও নাসিমা মেয়েটিকে গত ১৯ এপ্রিল ও ১ জুলাই দুই দফা অপহরণ করে। এ বিষয়ে মেয়েটির পরিবার আদালতে ১০০ ধারায় দুটি মামলা করেছে।

এরপর বাজিতপুর থানা আসামি ধরতে গড়িমসি করলে মেয়ের বাবা র‌্যাব ১৪, ভৈরব ক্যাম্পে যান। পরে র‌্যাব সদস্যরা গত ৩০ মার্চ অভিযুক্ত ও তার বাবাকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে। কাজলের জামিন হলেও মইনুদ্দিন জেলহাজতে আছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাজিতপুর সার্কেল) মো. আমিনুর রহমান জানান, ওসির বিষয়ে স্কুলছাত্রীর বাবার অভিযোগের তদন্তভার তাঁকে দেওয়া হলে তিনি তদন্ত করেন। অপহৃতকে উদ্ধারের পর আদালতে পাঠানো হয়। আদালত মেয়েটিকে বাবার জিম্মায় দেন। মেয়েটি আবার অপহৃত হলেও পরিবার পুলিশের কাছে আর অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দেওয়ার পর ওসি যদি দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা