kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খুলনার নদী-খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু

খুলনা অফিস   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুলনার নদী-খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু

ময়ূরসহ খুলনার ২৬টি নদী-খাল দখলমুক্ত করতে গতকাল বুড়ো মৌলভীর দরজা রোড এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘সিএস পরচা অনুযায়ী ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের কাছ থেকে জমি কিনেছিলাম। কিন্তু হাল পরচায় তার কিছু অংশ ময়ূর নদীর বলে দেখানো হয়েছে। ফলে আমার তিনতলা বাড়ির কিছু অংশ নদীর মধ্যে পড়েছে। তাই সিটি করপোরেশনের মাইকিং শুনেই বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলছি। দু-এক দিনের মধ্যে পুরো জায়গাই খালি হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। নদীর পাশে জমি কেনাই বিপদ। আর নদীর পাশের জায়গা কিনতে চাই না।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন খুলনার ময়ূর নদীর তীরের গল্লামারী দরগাহ রোডের বাসিন্দা তিনতলা বাড়ির মালিক এইচ এম কামরুজ্জামান। গতকাল রবিবার ময়ূরসহ খুলনার ২৬টি নদী-খাল দখলমুক্ত করতে বুড়ো মৌলভীর দরগাহ এলাকা থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে তিনি এমন মন্তব্য করেন। শুধু কামরুজ্জামানই নয়, স্থানীয় কেউই এ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।

কামরুলের প্রতিবেশী মো. মামুন বলেন, ‘আমার বাড়ির কিছু অংশ নদীতে পড়েছে। নোটিশের পরেই তা খালি করে দিয়েছে। বুঝতে পারিনি, সেটি নদীর জায়গা।’ স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা সাফায়েত শেখ বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এলাকার পরিবেশ পাল্টে যাবে। একই সঙ্গে নদীতীর সংরক্ষণ করতে হবে। এটা ভালো উদ্যোগ।’

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ময়ূর নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, স্থানীয় কাউন্সিলর আলী আকবর টিপুসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অভিযানকালে সিটি মেয়র তালুকদার আবদুুল খালেক বলেন, ‘ময়ূর নদী ও ২৬টি খালে যত দিন অবৈধ স্থাপনা থাকবে, তত দিন উচ্ছেদ অভিযান চলবে। দখলদারদের সঙ্গে আপস নয়।’

কেসিসি তথ্য অনুযায়ী, ময়ূর নদী ও ২৬টি খালে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সরকারের চার সংস্থা যৌথ জরিপ চালায়। জরিপে ৪৬০ জন দখলদারের তালিকা তৈরি করা হয়। নদী ও খাল দখল করে তৈরি স্থাপনার সংখ্যা ৩৮২টি। এ ছাড়া ময়ূর নদে ৭৯ জন ব্যক্তি ৬৩টি অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছে। ফলে ১২ কিমি দীর্ঘ ময়ূর নদীর ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নগরীতে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণও ময়ূরসহ নদী-খালের এসব অবৈধ দখলদার। ময়ূর নদীর নাব্যতা বাড়াতে সিটি করপোরেশন ২০১৬ সালে পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও বাস্তবে তা কোনো কাজে আসেনি। যে কারণে ময়ূর নদী ও ২৬টি খাল দখলমুক্ত করতে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা