kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিএনপির আসনে আ. লীগে দুর্যোগ

আশুগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিরোধ চরমে

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) সাতজনের মধ্যে ব্র্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে রয়েছেন একজন (আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া)। বিএনপি সংরক্ষিত (নারী) যে আসনটি পেয়েছে সেটির প্রতিনিধিও সরাইল উপজেলার (রুমিন ফারহানা)। সহজ কথায়, ওই আসনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই এমপি।

কোন্দলের কারণে এবারের নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়। সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি। তবে প্রার্থী হওয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনউদ্দিন মঈন কোন্দলের ‘বলি’ হন। শ্বশুর-জামাইয়ের দ্বন্দ্বে হেরে যান ‘মহাজোট’ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। প্রথমদিকে জামাই রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ও পরে শ্বশুর জিয়াউল হক মৃধাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

ওই সংসদীয় আসনের আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিরোধ এখন চরমে। মেয়াদোত্তীর্ণের আগেই বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলনের ঘোষণা নিয়ে বিরোধ এখন আরো স্পষ্ট। যুবলীগের নতুন কমিটি গঠন নিয়েও চলছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, ‘চার বছর আগে তিন মাসমেয়াদি আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সম্মেলন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে এখন আমরা নতুন কমিটি দিয়েছি। আগের কমিটির তারা এখন যুবলীগে নেই।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে আশুগঞ্জে দলের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। যে কারণে এখন ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সম্মেলন করার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ

গত বুধবার দুপুরে আশুগঞ্জের উজানভাটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছফিউল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে আগস্টজুড়ে শোক দিবসের কোনো কর্মসূচি পালন না করা, মেয়াদ থাকার পরও একগুঁয়েমিভাবে বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি ভাঙার একক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক-১ আবু নাছের আহমেদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তোফায়েল আলী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ছফিউল্লাহ মিয়া কারো সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে শোকের মাসে (২৫ আগস্ট) উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা ডাকেন। সভায় উপজেলার সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ৬১ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতাকর্মীরা ওই সভা বর্জন করে। ওই সভায় শোকের মাসে উপজেলার সব ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন ঘোষণা করে শহীদদের প্রতি উপহাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ২০১৭ সালের মে মাসে ছফিউল্লাহর নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সব ইউনিটের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাদের মেয়াদ ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা। মেয়াদ শেষ হওয়ার আরো অন্তত ১১ মাস থাকার পরও সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া অগণতান্ত্রিক ও আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। সম্মেলন করা হলে উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

ছফিউল্লাহ বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া গত সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রকাশ্যে বিএনপির প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার পক্ষে ভোট চেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ২০১৩ সালে উপজেলা সম্মেলনে ছফিউল্লাহকে সভাপতি ও হানিফ মুন্সীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছরের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে ছফিউল্লাহ ২০১৪ সালে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ছফিউল্লাহকে আহ্বায়ক করে ৬১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে জেলা আওয়ামী লীগ। চার বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম।

তবে ছফিউল্লাহ মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘শোক দিবসে বিভিন্ন মসজিদে দোয়া পড়ানো হয়েছে। সভা ডাকলে ইউনিয়ন কমিটির নেতারা আসেননি। তাঁরা যেহেতু দলের বাইরে কাজ করছেন, সেহেতু তাঁদের রাখব কেন? আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

যুবলীগ

যুবলীগের কমিটি ঘোষণার পর থেকে আশুগঞ্জে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৫ আগস্ট একপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। নতুন ঘোষিত কমিটি বাতিল না করা হলে লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। গত ২৭ জুলাই একই দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়। ওই পাল্টা কর্মসূচি পালন করে নতুন কমিটি।

আশুগঞ্জ প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিলুপ্ত ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক মো. জিয়াউদ্দিন খন্দকার। এ সময় তিনি বলেন, ১৬ বছর ধরে জেলা যুবলীগ সম্মেলন করতে পারে না। অথচ আশুগঞ্জে চার বছর ধরে সম্মেলন হয় না বলে কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে গঠিত আমাদের আহ্বায়ক কমিটির নির্দেশনা অনুসারে ইউনিয়ন সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হয়। ইউনিয়ন কমিটি করে কাউন্সিলরের তালিকা কেন্দ্রীয় যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুল রহমানের কাছে জমা দেওয়া হয়। কেন্দ্র থেকে বলা হয়, জেলার সঙ্গে সমন্বয় করে সম্মেলন করার জন্য। কিন্তু জেলা নেতাদের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা জানানো হলেও সম্মেলনের তারিখ দিতে গড়িমসি করেন।’ এ অবস্থায় নতুন কমিটি করা স্বেচ্ছাচারী আচরণ বলে তিনি অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। গত ২৪ জুলাই কমিটি বিলুপ্ত করে মো. সাইফুর রহমান মনিকে আহ্বায়ক করে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করে জেলা যুবলীগ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা