kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পিরোজপুরে এহ্সান গ্রুপের গ্রাহকরা আতঙ্কে

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পিরোজপুরে এহ্সান গ্রুপের গ্রাহকরা আতঙ্কে

পিরোজপুরে এহ্সান গ্রুপের কর্ণধার মুফতি রাগিব হাসানের ১১ কোটি টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর ওই গ্রুপের গ্রাহকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হায় হায় কম্পানি খ্যাত প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি, যুবক, পে-টু ইউ, ডোলেঞ্চারের পথেই কি হাঁটছে পিরোজপুরের এহ্সান গ্রুপ—এমন প্রশ্ন এখন গ্রাহকদের মাঝে উঁকিঝুঁকি মারছে।

এ ব্যাপারে তথ্য নিতে এহ্সান গ্রুপের পিরোজপুরের বিভিন্ন অফিসে গিয়েও দায়িত্বরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি। গ্রুপের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নূর-ই মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমিতে গিয়েও প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আবুল বাশারের দেখা মেলেনি। তাঁর মোবাইলে ফোন করলেও তিনি ধরেননি। এহ্সান গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান এহ্সান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডে গিয়েও পাওয়া যায়নি প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি মাওলানা নাজমুল ইসলামকে। পরে হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ জামাল সরদারের কাছে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুফতি রাগীব আহসান সম্পর্কে জানাতে চাইলে তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচলক ঢাকায় আছেন। তবে কোথায় আছেন সে বিষয়ে কিছুই জানেন না।

মাহবুবুর রহমান, হাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন গ্রাহক জানান, ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পরিরচালনার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা জমা নেওয়া হয়েছিল। তবে এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম তাদের কাছে বর্তমানে সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে।

জানা যায়, পিরোজপুরের বড় খলিশাখালী নিবাসী আব্দুর রব খাঁয়ের জ্যেষ্ঠ পুত্র মুফতি রাগীব আহসান ২০১০ সাল থেকে এহ্সান রিয়েল এস্টেট নামের একটি এমএলএম কম্পানি দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। এখানে গ্রাহকদের প্রতি এক লাখ টাকা জমার বিপরীতে মাসে দুই হাজার ২০০ টাকা মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। এভাবে হাজার হাজার গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

মুফতি রাগীব আহসান পিরোজপুরে ইয়াসিন খাঁ সেতুসংলগ্ন মকতব মসজিদে নামমাত্র বেতনে ইমামতি করতেন। পরবর্তী সময়ে একটি এমএলএম কম্পানিতে চাকরি করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজে পিরোজপুর জেলায় এহ্সান রিয়েল এস্টেট নামের কম্পানি করেন, যা পরে এহ্সান গ্রুপ পিরোজপুর বাংলাদেশ নামের প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়।

সদর থানার ওসি জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘এহ্সান গ্রুপের মালিক ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে লোকমুখে শুনেছি। এ ব্যাপারে অফিশিয়ালি কোনো চিঠি পাইনি। আর গ্রাহকদের কেউ এখন পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা