kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাকুন্দিয়া

তিন মাসেও সহায়তা পায়নি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখনো কোনো অর্থসহায়তা পায়নি কৃষি বিভাগের। ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছে শত শত কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা দাবি করেছে।

এলাকাবাসী ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে জাঙালিয়া ও চরফরাদী ইউনিয়ন দুটি। এসব এলাকায় আউস ধান, বেগুন, মরিচ, শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, চালকুমড়া, পান, আলু, ধুন্দুল, তুলা ও বিভিন্ন শাকসবজিসহ ২০৯ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে এক হাজার সাত শ ৩৭ জন কৃষক সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা।

কাহেত্ধান্দুল গ্রামের কৃষক কামাল উদ্দিন বলেন, ‘লাভের আশায় ঋণ কইরা আড়াই বিঘা জমিতে মরিচ করছিলাম। আকস্মিক বন্যার পানিতে সব গাছ ডুইবা পইচা গেছে। এতে আমার দুই লাখ টাকার ক্ষতি হইছে।’ মির্জাপুর গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ধার-দেনা করে দুই বিঘা জমিতে বেগুন করছিলাম। হঠাৎ বন্যার পানিতে জমির সব বেগুনগাছ তলিয়ে গিয়ে পচে গেছে। এতে আমার দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকার যদি আমাদের আর্থিক সহায়তা দিত, তাহলে কোনো রকম ধার-দেনা পরিশোধ করে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতাম।’ চরকাওনা মুনিয়ারীকান্দা গ্রামের তুলা চাষি ইসলাম মিয়া বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে তুলা চাষ করছিলাম। বন্যার পানিতে সমস্ত তুলাগাছ মরে গেছে। এতে আমার তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল হাসান বলেন, ‘পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙালিয়া ও চরফরাদী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় কৃষকের ২০৯ হেক্টর জমির আউস ধান ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে এক হাজার সাত শ ৩৭ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষকের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা