kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অলিগলিতে বসে ‘মাদকের হাট’

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অলিগলিতে বসে ‘মাদকের হাট’

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার বিভিন্ন গলিতে চলছে মাদকের কারবার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে মাদকসেবীদের আড্ডা। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে পৌরবাসী। এ ছাড়া পৌর এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। 

জানা যায়, গত রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরের কাছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে গুলি করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কম্পানির ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিনতাই করে আট ছিনতাইকারী।

একই দিন রাতে পৌর শহরের কুমুদিনী হাসপাতাল রোডে এ জে এস কোং অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা এক লাখ টাকা ও সিসি ক্যামেরার মনিটরসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। এ ছাড়া মির্জাপুর প্রেস ক্লাবসহ শহরের বিভিন্ন বাসায়ও ঘটছে চুরির ঘটনা।

এর আগে বিকেলে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের কদমা গ্রাম থেকে একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য, গোড়াকী গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া ও একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মানিক মিয়াকে ৯ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ১৫ দিনে অর্ধশত মাদক বিক্রেতা, সেবনকারী ও কয়েকজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ‘সমাজে প্রতিবাদী লোকের সংখ্যা খুবই কম। কেউ ঝামেলায় পড়তে চায় না। চোখের সামনে অনেক কিছুই দেখি। কিন্তু কিছুই করার থাকে না। উঠতি বয়সের ছেলেরা মাদক সেবন করছে। তাদের বয়স ১৫-২৮ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন স্টাইলে চুল কাটা ও কালার করা। কোনো কিছু বললে ওরা বাসার জানালায় ও ঘরের চালে ইটপাটকেল ছোড়ে, গালাগালি করে। তা ছাড়া রাস্তায় চলাফেরার সময় বিভিন্ন হুমকি দেয়।’ 

পৌর এলাকার পুষ্টকামুরী মধ্যপাড়ার তিনটি স্পট, পুষ্টকামুরী পপালপাড়া, দক্ষিণপাড়া, কুতুব বাজার, শ্রীহরিপাড়া, সাহাপাড়া, ঘোষপাড়া, পাহাড়পুর, বাইমহাটী পশ্চিমপাড়া, রেলস্টেশন, গাড়াইল, গাড়াইল বেদেপাড়া, পুষ্টকামুরী চরপাড়া এলাকায় মাদকের ব্যবসা চলে। পুলিশ মাদক বিক্রেতাদের ধরলেও তারা জামিনে বেরিয়ে একই কারবার করে।

মির্জাপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও মির্জাপুর উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক সিদ্দিকী বলেন, ‘মাদক এখন সামাজিক ব্যাধি। এটাকে নির্মূল করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

মির্জাপুর থানার ওসি মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করি। কারো কাছে মাদক পেলে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। আমি যোগ দেওয়ার পর প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত অর্ধশত মাদকসেবী, বিক্রেতা ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

যারা মাদক সেবন ও বিক্রি করে তাদের নাম-ঠিকানা দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘তথ্যদাতার নাম-পরিচয় গোপন রেখে অভিযান চালানো হবে। এ ছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কম্পানির টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় বুধবার দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা