kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আক্কেলপুর

কর নিয়ে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার মধ্যে ঠেলাঠেলি

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ গত তিন বছর ধরে পৌর কর ৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আদায় করলেও এবার সেই কর দিতে রাজি হচ্ছে না। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদ ও আক্কেলপুর পৌরসভার মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন্দের দাবি, তাঁর উপজেলায় আয় কম এবং পৌরসভা টাকা নিয়ে ঠিকমতো সেবা দেয় না। এ কারণে তিনি পৌরকর কমানোর প্রস্তাব রেখেছেন পৌরসভার কাছে।

উপজেলা পরিষদ ও পৌর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৮ মে পৌরসভায় রিভিউ বোর্ডের উপস্থিতিতে তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতি অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা পৌরকর ধার্য করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন ওই সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও গোলাম মো. শাহেনওয়াজ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল ও মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী। পরে তা বাজেটে পাস করা হয়। সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল তিন বছর নিয়মিত পৌরসভার নির্ধারিত পৌরকর পরিশোধ করেন। কিন্তু ২০১৯-২০ অর্থবছরে পৌরকর আদায় করেনি উপজেলা পরিষদ। এর জন্য গত ১ জুলাই উপজেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন্দকে একটি পত্র দেন পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী। পরে ৯ জুলাই উপজেলা পরিষদের রাজস্ব আয় কম থাকায় এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। সেই সঙ্গে চেয়ারম্যান দাবি তুলেছেন পৌরকর যেন এক থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়। এই পত্র পাওয়ার পর ফের পৌর কর্তৃপক্ষ কর পরিশোধের জন্য চিঠি দেয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন্দ বলেন, ‘জেলার অন্যান্য উপজেলায় পৌরকর অনেক কম। এখানে অনেক বেশি টাকার কর নির্ধারণ করা হয়েছে। আমার এখানে রাজস্ব আয় কম। তাই এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। পৌরসভাকে পত্রের মাধ্যমে জানিয়েছি পৌরকর কমানোর জন্য। তা ছাড়া পৌরসভা ঠিকমতো আমাদের সেবা দেয় না।’ আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি নিতিমালা অনুযায়ী আমরা দরখাস্ত দিয়েছিলাম। তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিভিউ বোর্ডের মাধ্যমে ৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা পৌরকর ধার্য করেছেন। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তিন বছর নিয়মিত ওই টাকা পরিশোধও করেন। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলছেন আয় কম, তাই কর কমাতে হবে। এখানে টাকা কমানোর কোনো সুযোগ নেই।’ সেবা কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেবা কম দেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা