kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দৌলতদিয়া যৌনপল্লী

হাত বাড়ালেই মেলে মাদকসহ নিষিদ্ধ দ্রব্য

♦ ছয় দিনে ২ লাশ উদ্ধার
♦ চলে মদ ও জুয়ার আসর
♦ অবৈধ শতাধিক আবাসিক বোর্ডিং

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাত বাড়ালেই মেলে মাদকসহ নিষিদ্ধ দ্রব্য

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লী ও পাশের রেলস্টেশন এলাকায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্যসহ উত্তেজক নিষিদ্ধ পানীয় ও ট্যাবলেট। পাশাপাশি সেখানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ আবাসিক বোর্ডিং। সেখানে বিভিন্ন বোর্ডিংয়ের কক্ষের ভেতর নিয়মিত বসছে মাদক ও জুয়ার জমজমাট আসর। মাত্রাতিরিক্ত বিভিন্ন মাদকের সঙ্গে নিষিদ্ধ পানীয় ও ট্যাবলেট খেয়ে বিষক্রিয়ায় মারাও যাচ্ছে অনেকে।

গত ২৬ আগস্ট দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর ২ নম্বর গেট এলাকায় ‘গাউসিয়া নিজাম’ বোর্ডিং থেকে সুমন প্রামাণিক নামে এক খদ্দেরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া গত ২১ আগস্ট আরো এক খদ্দেরের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া রেলস্টেশনের পাশে অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী। বর্তমানে সেখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী বসবাস করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন সেখানে কয়েক হাজার মানুষ মাদক সেবন ও ‘বিনোদন’ করতে আসে।

এদিকে ওই পল্লীর ভেতরে রয়েছে বেশ কিছু মদের দোকান। পাশাপাশি রয়েছে ওষুধের ফার্মেসি, মুদিখানা, খাবার হোটেলসহ ছোট-বড় তিন শতাধিক বিভিন্ন দোকানপাট।

বেশির ভাগ দোকানে রকমারি পণ্যসহ বিভিন্ন মাদক ও উত্তেজক নিষিদ্ধ পানীয় ও ট্যাবলেট প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। পল্লীতে আসা খদ্দেররা নিষিদ্ধ ওই সব পানীয় ও ট্যাবলেটের প্রধান ক্রেতা। তবে পল্লীর অনেক কর্মীও নিয়মিত এসব খায়।

দৌলতদিয়া পল্লীর এক দোকানি জানান, প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার বোতল ওই সব পানীয় বিক্রি হয়। দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর সংগঠন ‘অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা’র একজন কর্মকর্তা জানান, ‘পল্লীতে আসা অনেক খদ্দের বিনোদনের আগে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবনের পাশাপাশি নিষিদ্ধ উত্তেজক বিভিন্ন পানীয় ও ট্যাবলেট খেয়ে থাকে। এতে বিষক্রিয়া হয়ে অনেকে মারাও যাচ্ছে।’

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই পল্লীকে ঘিরে দৌলতদিয়া রেলস্টেশন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য আবাসিক বোর্ডিং। খদ্দেরদের বড় একটি অংশ পল্লীর ভেতরে রাতভর বিনোদন শেষে ওই সব বোর্ডিংয়ে থাকে। আবার অনেকে বোর্ডিংয়ের কক্ষের ভেতরে বসায় জমজমাট মাদক ও জুয়ার আসর।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মাদকদ্রব্য বিক্রি, সেবন ও জুয়ার আসর বন্ধে এলাকায় নিয়মিত পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, ‘পল্লী ও পাশের রেলস্টেশন এলাকায় গড়ে তোলা সব অবৈধ আবাসিক বোর্ডিং উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ উত্তেজক পানীয় ও বিভিন্ন ট্যাবলেট বিক্রি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা