kalerkantho

গোয়ালন্দে দফাদারও আ. লীগের নেতা

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোয়ালন্দে দফাদারও আ. লীগের নেতা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ। সেখানে দফাদার পদে সরকারি চাকরি করছেন আইয়ুব আলী শেখ। তাঁর বাড়ি একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার হাজী গফুর মণ্ডলপাড়া গ্রামে। গত ৮ জুলাই আওয়ামী লীগের ওই ওয়ার্ড কমিটির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় ওই কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠনে সভাপতি পদপ্রার্থী হন দফাদার আইয়ুব আলী। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের গোপন ভোটে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতিও নির্বাচিত হন তিনি।

এ ঘটনায় সরকারি চাকরিরত অবস্থায় রাজনৈতিক দলের সভাপতি পদ গ্রহণের বৈধতা তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দফাদারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন খাঁ।

অভিযোগ পেয়ে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উজানচর ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে উজানচর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফকির গত ২১ জুলাই লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা তুলে ধরে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকাকালীন কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলে কাউন্সিলর বা দলের পদ গ্রহণ করতে পারেন না। অতএব ইউনিয়ন পরিষদ অধ্যাদেশ ২০১১-এর ২(ক) ধারার বিধান অনুযায়ী দফাদার আইয়ুব আলী শেখ শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

পরে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ৭ আগস্ট সংশ্লিষ্ট দফাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। নোটিশে বিধি-বিধান অনুযায়ী কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার যথাযথ কারণ দর্শাতে বলা হয়। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বলা হয়েছে।

এদিকে উজানচর ইউপির এক সদস্য জানিয়েছেন, সরকারি চাকরি করার পাশাপাশি ওই দফাদার এখন ক্ষমতাসীন দলের ওয়ার্ড কমিটির নির্বাচিত সভাপতি। এ নিয়ে এলাকার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবায়েত হায়াত শিপলু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ অধ্যাদেশে উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী ইউপি দফাদার আইয়ুব আলী শেখ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দলীয় কমিটির পদ গ্রহণ করায় তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবও তিনি যথাযথভাবে দিতে পারেননি। তাই তাঁকে সরকারি চাকরি অথবা রাজনৈতিক দল—যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয়েছে।’ তবে আবেদন করায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কিছুটা সময় তাঁকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ইউএনও জানান।

এ ব্যাপারে উজানচর ইউপির দফাদার ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি আইয়ুব আলী শেখ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একদিকে সরকারি চাকরি, অন্যদিকে দল। কোনটা ছেড়ে কোনটা রাখব—তা আমি বলতে পারছি না।’ তবে সময় সব কিছু বলে দেবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা