kalerkantho

ঐতিহাসিক কূপটি কাউন্সিলরের দখলে

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঐতিহাসিক কূপটি কাউন্সিলরের দখলে

ব্রিটিশ আমলে তৈরি রেলওয়ের কূপটি এভাবেই ইট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রেলওয়ে কলোনিতে ব্রিটিশ শাসনামলের তৈরি সেই সচল কূপটি নিশ্চিহ্ন করার জন্য কূপের চারপাশ ইট দিয়ে ঘেরাও করে কূপের পাড় ভেঙে ইট সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। কূপটি এখন আক্কেলপুর পৌরসভার সাবেক নারী কাউন্সিলর রোজী আক্তারের দখলে! এ নিয়ে গত শনিবার কালের কণ্ঠে ‘ব্রিটিশ আমলের কূপটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় আক্কেলপুর স্টেশন মাস্টার ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কূপটি রক্ষাসহ সাবেক ওই নারী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুর রেলস্টেশন থেকে উত্তর দিকে স্টেশন রোডের পাশে রেলওয়ে কলোনিতে ব্রিটিশ শাসনামলে তৈরি একটি বড় কূপ রয়েছে। স্থানীয়রা কূপটির পানি ব্যবহার করত। হঠাৎ করে কয়েক দিন আগে আক্কেলপুর পৌরসভার সাবেক নারী কাউন্সিলর রোজী আক্তার শ্রমিক লাগিয়ে কূপটির চারপাশ ইট দিয়ে ঘেরাও করেন এবং একটি লোহার দরজা লাগিয়ে দেন। এরপর শ্রমিক দিয়ে কূপটির পাড় ভেঙে ইটগুলো ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যান। কূপটি এখন তাঁর দখলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোজী আক্তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং স্টেশন ইনচার্জকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ব্রিটিশ আমলের তৈরি ওই কূপটি ভেঙে ফেলছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো না।

স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা নজিবর রহমান বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলের কূপটি এলাকার একটি ঐতিহ্য বহন করে আসছিল। এত পুরনো, এত বড় কূপ এলাকায় আর কোথাও নেই। সেই কূপটি এভাবে প্রকাশ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি দেখে আমি হতবাক হয়ে গেছি।’

এ ব্যাপারে আক্কেলপুর রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রেলওয়ের আইডাব্লিউকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখানে আমাদের আর করার কিছু নেই।’

এ বিষয়ে রেলওয়ের আইডাব্লিউ নারায়ণ প্রসাদ সরকার বলেন, ‘কূপের বিষয়ে আক্কেলপুর স্টেশন মাস্টার আমাকে জানানোর পরে আমি লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে জেনে দোষীদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের সান্তাহার জিআরপি (এসটিইউ) থানায় একটি এজাহার দিয়েছি। তারা বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা