kalerkantho

বাইরে ডেঙ্গুরোধী প্রচার ভেতরে আঁতুড়ঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাইরে ডেঙ্গুরোধী প্রচার ভেতরে আঁতুড়ঘর

বগুড়া পৌরসভা চত্বরে রাখা পরিত্যক্ত ড্রামে (ইনসেটে) দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে বংশ বিস্তার করছে মশা। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস ও ডেঙ্গুবিষয়ক জনসচেতনতা বাড়াতে সিটি ও পৌর মেয়রদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি এ ঘোষণার পর পৌর কর্মকর্তারা নেমে পড়েছেন মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজে। তবে বগুড়া পৌরসভার ক্ষেত্রে ঘটছে উল্টো ঘটনা। পৌর কর্তৃপক্ষ কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করে বিভিন্ন স্থানে প্রচার-প্রচারণা চালালেও নিজ কার্যালয়ে মশার লার্ভা ধ্বংসের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে কার্যালয়ের ভেতরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ৩০টিরও বেশি ড্রামে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মশা বংশবিস্তার করছে। পরিত্যক্ত ড্রামগুলো রবিবার দুপুর পর্যন্ত সরানো হয়নি।

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বগুড়া পৌরসভা কার্যালয়ের ভেতরে ৩০টিরও বেশি পরিত্যক্ত ড্রাম রাখা। ভেতরে বৃষ্টির স্বচ্ছ পানি। সেখানে মশার লার্ভা দেখা গেছে। তবে এগুলো ডেঙ্গু জীবাণুর বাহক এডিস মশার লার্ভা কি না সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানা গেছে, এই মুহূর্তে সারা দেশের মতো বগুড়াতেও ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু বগুড়াতেই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিধনে সরকারি সব দপ্তরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কিন্তু বগুড়া পৌরসভার ভেতরে এ ধরনের চিত্রে হতবাক হয়েছে সাধারণ নাগরিকরা।

শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম রবিবার বগুড়া পৌরসভায় যান একটি কাজে। সেখানে তিনি ড্রামের সারিগুলো দেখে উৎসুক হয়ে উঁকি দেন। সেখানে মশার লার্ভা দেখে ‘থ’ বনে যান। পরে বিষয়টি তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিগত কয়েক দিনে এক লাখ সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি প্রতিদিন মাইকিং, জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, পরিচ্ছন্ন সপ্তাহ পালন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন ও স্প্রে মেশিন দিয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর কার্যাক্রম চালাচ্ছে। কিন্তু যে ড্রামগুলো কার্যালয়ের ভেতরে রয়েছে সেগুলো গত কোরবানির ঈদের আগে রাখা। ৩০টি ড্রামের প্রতিটির মুখ খোলা। বৃষ্টির স্বচ্ছ পানি সহজেই এসব ড্রামে জমা হচ্ছে।

জানা গেছে, বগুড়া পৌরসভা কার্যালয়টি শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় অবস্থিত। এই এলাকায় অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টার রয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়মিত যাতায়াত। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অন্তত ৫০ জন ডেঙ্গু রোগীই শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। 

আকরাম হোসেন নামের একজন বাসিন্দা বলেন, পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডের প্রায় চার লাখ মানুষের সচেতনতার দায়িত্ব যাদের হাতে, ডেঙ্গুরোধে তাদের উদাসীনতা দেখে নাগরিকরা হতভম্ব। তিনি জানান, বগুড়া পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক শাহ আলী প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই পৌরসভায় রয়েছেন। তাঁর কাজ এসব দেখভাল করা হলেও তিনি ব্যস্ত শহরের অবৈধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে অবৈধ চুক্তি করতে। বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমানের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো ফল মেলেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি শহর পরিচ্ছন্ন রাখার। পৌরসভার ভেতরে এই কাজ কিভাবে হলো—সেটি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’

মন্তব্য