kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

‘সুখের সন্ধান বহুমুখী সমিতি’র নামে প্রতারণা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

লাভের লোভ দেখিয়ে সমিতির নামে একটি চক্র পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষের অন্তত ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারণার শিকার গরিব মনুষগুলো কেউ কাজের বুয়া, কেউ বা পোশাক শ্রমিক কিংবা ফেরিওয়ালা। ভবিষ্যতের সুখের আশায় তিন-চার বছর ধরে ‘সুখের সন্ধান বহুমুখী সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি ভুয়া সংস্থায় টাকা জমিয়ে সর্বস্ব খুইয়েছে তারা। প্রতারণার শিকার বেশির ভাগ সদস্যই নারী। তারা রাজধানী ঢাকার ইব্রাহীমপুরসহ আশপাশের এলাকার বস্তিবাসী।

প্রতারকচক্রের মূল হোতা রাহিমা বেগম (৩৮) কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের ভাটিয়া গাংপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে তার স্বামী কাশেম, ভাই অলিসহ স্বজনদের নিয়ে সমিতির নামে বস্তিবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। কয়েক মাস আগে সদস্যদের জমানো টাকা পরিশোধ না করে হঠাৎ ৯৭৪/১, সি, দক্ষিণ ইব্রাহীমপুরে অবস্থিত সমিতির কার্যালয় বন্ধ করে গাঢাকা দেয় সমিতির সভাপতি রাহিমা বেগম। এ ব্যাপারে গত ২১ জুলাই পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে পশ্চিম ভাষানটেকের বাসিন্দা কুলসুম বেগম একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, সমিতির নামে বছরে এক লাখে ৪০ হাজার টাকা সুদ দেওয়া হবে—এমন কথা বলে কুলসুম বেগমের কাছ থেকে ছয় লাখ ২৬ হাজার, কার্তিক বেগমের কাছ থেকে সাত লাখ ৭৬ হাজার ও সাবিনা বেগমের কাছ থেকে চার লাখ ৫৪ হাজার টাকা নেয় রাহিমা বেগম। তাঁরা এসব টাকা কয়েক বছরে জমা করেন। শুরুর দিকে কিছু সুদ দিয়ে সদস্যদের বিশ্বাস অর্জন করে রাহিমা। এরপর কয়েক মাস আগে সদস্যদের টাকা-পয়সা পরিশোধ না করে হঠাৎ উধাও হয়ে যায় রাহিমা ও তার লোকজন। এখন তারা সমিতির লোকজনের কোনো হদিস পাচ্ছেন না। তাঁদের জমানো টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

 

অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে করিমগঞ্জ থানার ওসিকে দায়িত্ব দেয় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। করিমগঞ্জ থানার পুলিশ শনিবার রাহিমা বেগমকে থানায় তলব করে আনে। রাহিমা বেগম গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছে—এমন খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে ঢাকা থেকে প্রতারণা শিকার শতাধিক সদস্য করিমগঞ্জ থানায় গিয়ে হাজির হয়। দিনভর থানার সামনে অবস্থান করে তারা। সন্ধ্যার পর হতাশ হয়ে ফিরে যায়।

বিকেলে করিমগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলামের কক্ষে ঢুকে দেখা যায়, অভিযুক্ত রাহিমা বেগম, অভিযোগকারী কুলসুম বেগমসহ অন্যরা বসে রয়েছে। তখন রাহিমা বেগমকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে সে অভিযোগ আংশিক স্বীকার করে বলে, ‘আমি সদস্যদের কাছ থেকে যেমন টাকা নিয়েছি, তেমনি পরিশোধও করেছি। তাদের সব অভিযোগ সত্য নয়। তা ছাড়া সবার টাকাই পরিশোধ করা হবে। তবে আমাকে সময় দিতে হবে।’

এ ব্যাপারে করিমগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ নারী একজন বড় ধরনের প্রতারক। কম করে হলেও সমিতির নামে কোটি টাকা প্রতারণা করেছে। কাজেই ভুক্তভোগীদের বলব এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করতে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনাটি যেহেতু ঢাকায় ঘটেছে, মামলাটিও করতে হবে ঢাকায়। মামলার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে করিমগঞ্জ থানার ওপর কোনো দায়িত্ব অর্পিত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা