kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

কুড়িগ্রাম

দুই মাসেই সেতুতে ধস

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই মাসেই সেতুতে ধস

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনিরাম গ্রামের খালের ওপরের সেতুটি নির্মাণের দুই মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনিরাম গ্রামের খালের ওপর নির্মিত সেতুটি নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মাথায়ই ধসে পড়েছে। ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুটি ঈদের ঠিক আগের দিন ধসে পড়ে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও পরিমাণে কম রড ব্যবহার করায় সেতুটি ধসে পড়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ধনিরাম আবাসনগামী রাস্তার খালের ওপর ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করে ফুলবাড়ী উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যয় হয়েছে সেতুটি নির্মাণে। কুড়িগ্রামের পুরাতন স্টেশন এলাকার এ টি এম দেলদার হোসেন টিটু নামের এক ঠিকাদার এটি নির্মাণ করেন। দরপত্রে বিলম্ব হওয়ায় সেতুর কাজ শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। তাড়াহুড়া করে নির্মাণ শেষ করে গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

বাঘখাওয়ার চর ও পূর্ব ধনিরাম এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) যোগসাজশে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। রড, সিমেন্ট, পাথর প্রাক্কলনের চেয়ে পরিমাণে অনেক কম ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাক্কলনে ৫০ শতাংশ মোটা বালু ব্যবহার করার কথা থাকলেও প্রায় শতভাগ স্থানীয় বালু ব্যবহার করা হয়। ঢালাইয়ের সময় পাথর পরিষ্কার না করে কাদামাটিসহ স্থানীয় বালু ব্যবহার করে ঢালাই করা হয়েছে। সেতুর অ্যাপার্টমেন্ট ওয়াল, বিম, ছাদসহ সব ধরনের ঢালাইয়ের সময় ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার না করে শুধু বাঁশ ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ শেষ করেন ঠিকাদার। এমনকি নির্মাণকাজ শেষে ২৮ দিন ধরে কিউরিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদে ওই সময় এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিলেও পিআইও সবুজ কুমার গুপ্ত হুমকি দিয়ে কাজ চালু করেন।

রবিবার ফুলবাড়ী উপজেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে ধরলা নদীর তীরে অবস্থিত পূর্ব ধনিরাম গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা সেতুটির দুইপারে বাঁশের সাঁকো দিয়ে সংযোগ স্থাপন করে চলাচল করছে এলাকাবাসী। তবে যেকোনো সময় সেতুটির পুরোটাই ধসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। পূর্ব ধনিরাম আবাসনের ৯০টি পরিবারসহ বাঘখাওয়ার চরের এক হাজার পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র পথ এই সেতু। তাই সাধারণ মানুষসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘ঠিকাদার আর পিআইও মিলি ভাগ-বাটোয়ারা করি কাম করছে। এই জন্য সেতু টেকে নাই।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ জানান, সেতুটির নির্মাণ প্রাক্কলন অনুযায়ী করা হয়নি।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সবুজ কুমার গুপ্ত দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বন্যায় সেতুটির নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার জানান, পাইলিং ছাড়া এত বড় সেতু নির্মাণ করা অসম্ভব। তাই ডিজাইনে ত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আরেফিন বলেন, ‘তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা