kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

আনন্দে চোখ ভিজে এলো তাঁর

প্রিয় শিক্ষকের সান্নিধ্যে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্মুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাষ্ট্রীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভীষণ ব্যস্ত থাকতে হয় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদকে। এই ব্যস্ততার মধ্যেই গতকাল শুক্রবার স্কুলজীবনের প্রিয় শিক্ষকের খোঁজ নেওয়ার জন্য ঠিকই সময় বের করে নেন ড. হাছান মাহ্মুদ। সকাল ১১টায় মন্ত্রী তাঁর শৈশবের স্মৃতি জড়ানো বিদ্যাপীঠ সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাকের বায়েজিদ এলাকার বাসায় যান।

এ সময় প্রিয় শিক্ষকের পা ছুঁয়ে সালাম করেন মন্ত্রী হাছান মাহ্মুদ। আনন্দে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি শিক্ষক ইসহাক। প্রিয় শিক্ষকের সান্নিধ্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তথ্যমন্ত্রীও। এ সময় একই ব্যাচের শিক্ষার্থী জামাল নাসের চৌধুরী ও এস এম ইলিয়াছ দুলালও তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। অনেক দিন পর ছাত্র হাছান মাহ্মুদকে কাছে পেয়ে আলাপচারিতায় মশগুল হয়ে ওঠেন শিক্ষক ইসহাক। চলে স্মৃতিচারণা।

চট্টগ্রামের অন্যতম বিদ্যাপীঠ সরকারি মুসলিম হাই স্কুলে ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেছেন মোহাম্মদ ইসহাক। সর্বশেষ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অবসর নেন তিনি। ১৯৭৮ সালে এই স্কুল থেকেই কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করা হাছান মাহ্মুদ আজ তথ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক।

শিক্ষক ইসহাক বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছি, আবার বৈরুতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকেও ইংরেজিতে এমএ করেছি, এরপর শিক্ষকতায় এসেছি।’ এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলে ওঠেন, ‘স্যারের যোগ্যতা এত বেশি যে শিক্ষকতায় না এলে পাকিস্তানের সচিব হতেন।’ জবাবে ইসহাক বলেন, ‘আমি তো সেখানে (প্রশাসনের কর্মকর্তা) যাব না বলে আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম।’

আলাপের একপর্যায়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ বলেন, ‘স্কুলজীবনে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় আপনি স্যার একবার আমার বাবাকে অভিযোগ দিয়ে বলেছিলেন আমি পড়ালেখার চেয়ে রাজনীতি নিয়ে ঘুরছি বেশি। এরপর বাবা আমাকে প্রচণ্ড পিটিয়েছিলেন।’ এ সময় প্রিয় ছাত্রের স্মৃতি রোমন্থনে শিক্ষক আবারও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘ইসহাক স্যার সে সময় বাইসাইকেল নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতেন। স্যারের মতো গুণী শিক্ষকরা তাঁদের মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশে আলোকিত মানবসম্পদ তৈরিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। স্যারের অসামান্য অবদান ভুলে যাওয়ার নয়।’ প্রিয় শিক্ষকের পা ছুঁয়ে সালাম করে তাঁর কাছ থেকে বিদায় নেন ড. হাছান মাহ্মুদ। শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাকও তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন এ সময়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা