kalerkantho

বেনাপোলে বয়স্ক ভাতা বিতরণ টাকার বিনিময়ে

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও কয়েকজন ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারের দেওয়া বয়স্ক ভাতার টাকা বিতরণে কার্ডপ্রতি এক হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সামনে ঈদ, তাই কিছু লোকের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, সরকার উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে বয়স্ক নারী-পুরুষকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা দেয়। প্রতিটি ইউপি চেয়ারম্যান ব্যাংক থেকে এ টাকা উঠানোর জন্য চেক দিয়ে থাকেন। প্রতি তিন মাস পর পর এই চেক দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার এক বছর পর চেক দেওয়া হয়েছে। এবার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে ৭৭টি নতুন বয়স্ক ভাতার কার্ড পাওয়া নারী-পুরুষের কাউকে এক বছরের, কাউকে ছয় মাসের টাকার চেক দেওয়া হয়।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের নির্দেশে ঘিবা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইউনুস আলী, ধান্যখোলা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাসান আলী, বোয়ালিয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছাকের আলী ও শাখারীপোতা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিন্টু মিয়ার সহযোগিতায় ৭৭ জন কার্ডধারীর বয়স্ক ভাতার তিন হাজার টাকার চেক দেওয়ার আগে প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা করে নিয়েছেন।

কয়েকজন বয়স্ক ভুক্তভোগী জানান, তাঁদের কাছে বয়স্ক ভাতার অগ্রণী ব্যাংকের চেক দেওয়ার আগে মিজান চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন এক হাজার ২০০ টাকা নিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত ইউপি সচিব মিলন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আগে দু-তিন হাজার টাকা নেওয়া হতো। এখন তো অনেক কম নেওয়া হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই টাকা নেওয়ার কোনো বৈধতা নেই। তবে সামনে ঈদ, তাই কিছু লোকের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ওহাব আলী বলেন, প্রতিবছর প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে বয়স্ক ভাতার কার্ড আসে ৬০ থেকে ৬৫টি। এসব কার্ড বা চেক নিতে কোনো টাকা লাগে না। কেউ টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য