kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

মুকসুদপুরে মাহাবুর হত্যা মামলা

ভিটায় ফিরতে পারছে না ১০ পরিবার

মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মাহাবুর হত্যা মামলার বাদীপক্ষের বাধার মুখে বিবাদীপক্ষের ১০ পরিবার দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নিজেদের ভিটায় ফিরতে পারছে না বলে অভিযোগ। এ অবস্থায় যারা সচ্ছল তারা অন্যত্র ঘর ভাড়া করে থাকলেও দরিদ্রদের থাকতে হচ্ছে আত্মীয়-স্বজনের আশ্রয়ে। আরো অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরনা দিলেও কোনো লাভ হয়নি। ঘটনাটি পশ্চিম বাহাড়া গ্রামের মোল্যাপাড়ার।

গত সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিবাদীপক্ষের ১০টি পরিবারের ঘর খালি পড়ে আছে। অনেকের ঘরে লুটপাট চালানো হয়েছে। কারো কারো আবার দরজা-জানালা খুলে নেওয়া হয়েছে। পরে পশ্চিম বাহাড়ার আরেক প্রান্ত বাহাড়া মান্দারতলা বিদ্যালয় মাঠে বিবাদীপক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় আনোয়ারা বেগম জানান, তাঁর দুই ছেলে আসামি, ছেলেরা পলাতক। মুক্তিযোদ্ধা স্বামী কায়েম মোল্যার ভাতা তুলে জীবনযাপন করছেন। 

ফারজানা, রিজিয়া বেগম ও জামেলা বেগম অভিযোগ করেন, আসামি না হলেও অনেক পরিবারকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে বাদীপক্ষ।  

আব্বাস উদ্দিনের অভিযোগ, ১০টি পরিবারের নারী-শিশুসহ কমপক্ষে ৫০ জন ঘরছাড়া। নিজেদের ভিটায় গেলে বাদী গংরা তাড়িয়ে দেয়। মামলার ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তারা ঢুকতে দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

মাহাবুর হত্যা মামলার নথিসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, জমি, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মোল্যাপাড়ার মাহবুর ও সুজন মোল্যার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এর জেরে ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি মাহাবুরকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সেদিনই তাঁর চাচা আমির আলী মোল্যা বাদী হয়ে ২১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। কিন্তু বাদীপক্ষের নারাজিতে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। অন্যদিকে লুটপাট-ভাঙচুরের ঘটনায় ৫২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বিবাদীপক্ষের ফারজানা। পুলিশ তাদের মধ্যে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এ ছাড়া ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বিবাদীপক্ষের আবুল খায়ের মোল্যা। একই পক্ষের আব্বাস উদ্দিন মোল্যা আরেকটি মামলা করেছেন। মামলায় ২৫ জনকে আসামি করেছেন তিনি। আর ৫৩ জনের বিরুদ্ধে বিবাদীপক্ষের রিজিয়া বেগমের করা মামলায় ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। অবস্থা এখন এমন যে মোল্যাপাড়ার অধিকাংশ পরিবারের সদস্য কোনো না কোনো পক্ষের মামলার আসামি।

বাটিকামারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এবাদত হোসেন বলেন, ‘বিবাদীপক্ষের লোকজন যেন নিজ ভিটায় ফিরতে পারেন সে জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সালিস বৈঠকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দিই।’   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা