kalerkantho

পোকায় খাচ্ছে চাল

মনোহরদীতে অবরুদ্ধ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পোকায় খাচ্ছে চাল

নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভায় ভিজিএফ কার্ডধারী দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য খাদ্যগুদাম থেকে পোকায় ধরা, নিম্নমানের এবং খাবার অযোগ্য চাল সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে চাল বিতরণের সময় ভিজিএফ কার্ডধারীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মনোহরদী পৌর মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন খাদ্যগুদাম থেকে পাঠানো ৪৬ মেট্রিক টন চাল ফেরত দিয়েছেন। খবর পেয়ে খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী আজহার মনোহরদী পৌরসভায় আসেন। এ সময় চাল নিতে আসা কার্ডধারীরা তাঁকে আটকে রাখার পর গুদাম থেকে ভালো মানের চাল এনে তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এদিকে উপজেলার শুকুন্দী, চন্দনবাড়ী, একদুয়ারিয়া, লেবুতলা, দৌলতপুর, কাচিকাটা, গোতাশিয়াসহ ১২টি ইউনিয়নেও এমন পোকায় ধরা চাল খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ করা হয়। এসব চাল নেওয়ার সময় কার্ডধারীরা নিম্নমানের চাল সরবরাহে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া বিনা মূল্যের ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ঈদের আগেই এসব চাল বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। প্রত্যেক কার্ডধারী বিনা মূলে ১৫ কেজি চাল পাবে। সে অনুযায়ী মনোহরদী পৌরসভার তিন হাজার ৮১ জন ভিজিএফ কার্ডধারীর মাঝে বিতরণের জন্য পাওয়া বরাদ্দের অংশ হিসেবে এই চাল পৌরসভায় পাঠানো হয়।

জানা যায়, মনোহরদী পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে ২৮৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। গতকাল ১২ ইউনিয়ন ও মনোহরদী পৌরসভায় চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। মনোহরদী পৌরসভায় চাল বিতরণের সময় কার্ডধারীরা চালে পোকা দেখতে পেয়ে তা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে পৌর মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

মনোহরদী পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন জানান, মনোহরদী পৌর এলাকার ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে ঈদুল আজহার আগে কার্ডপ্রতি ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা। সে অনুযায়ী উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল পাঠানোর পর বস্তা খোলা হলে চালে প্রচুর পোকা পাওয়া যায়। তা ছাড়া তা অতি নিম্নমানের ও খাবার অনুপযোগী। এসব চাল পৌরবাসীর মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হলে তারা প্রতিবাদ জানায়। পরে এসব চাল ফেরত পাঠালে গুদাম কর্তৃপক্ষ ভালো মানের চাল সরবরাহ করে।

জানা যায়, চাল ক্রয় অভিযান চলাকালে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কম দামে পোকায় ধরা চাল সংগ্রহ করে খাদ্যগুদামে রাখা হয়। নীতিমালা লঙ্ঘন করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আকবর হোসেন মিয়া ও খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মো. আলী আজহার যোগসাজশে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উেকাচ নিয়ে ওই চাল কেনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চালের মানের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী আজহার দাবি করেন, ‘এই চাল প্রায় এক বছর আগে গুদামে ঢোকানো হয়েছে। তবে এসব চালে কোনো দুর্গন্ধ নেই। তা ছাড়া এসব চাল খাবার উপযোগী।’

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আকবর হোসেন মিয়ার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহিন আফজাল বলেন, ‘যদি এমনটি ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য