kalerkantho

বগুড়ায় আদালতে ক্ষুব্ধ বিচারক

আসামির পক্ষে পিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হত্যা মামলায় ১৪ বছরের পলাতক আসামির পক্ষে আবেদন জমা দিয়েছেন জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি শাহাদৎ হোসেন (২)। চার মাস আগে এ আবেদন জমা হলেও সেটি প্রকাশ হয় মঙ্গলবার দুপুরে।

অভিযুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে ১৪ বছর ধরে পলাতক ২ নম্বর আসামি ছানোয়ারুল ইসলাম ছানা এ তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। অ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেন নিয়মবহির্ভূতভাবে ছানার পক্ষ নিয়ে সাক্ষীদের পুনরায় জেরা করার জন্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারকের কাছে আবেদন জানান। এ আবেদনপত্রটি তিনি হাতে লেখেন এবং স্বাক্ষর করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০০৫ সালে সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচি তরফদারপাড়া গ্রামে গৃহবধূ জোবেদাকে খুন করে লাশ গুম করা হয়। পরে এ ব্যাপারে তাঁর ভাই মোকলেছার রহমান বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। দুই বছর তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালতে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এ মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয়। এর পর থেকে মামলাটি বিচারাধীন। পাঁচ আসামির মধ্যে ১ নম্বর আসামি সারিয়াকান্দির নারচী তরফদারপাড়ার অকি প্রামাণিক, ৩ নম্বর আসামি চরহরিনা গ্রামের গোকুল প্রামাণিক, ৪ নম্বর আসামি একই গ্রামের অহিদুল প্রামাণিক ও ৫ নম্বর আসামি নারচী বিলপাড়ার আব্দুল বাসেদ মোল্লা বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু শুরু থেকে এ মামলার ২ নম্বর আসামি নারচী তরফদারপাড়ার ছানোয়ারুল ইসলাম ছানা পলাতক। ১৪ বছর ধরে চেষ্টা করেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। যে কারণে আদালত আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। এখন এ মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হলেন অতিরিক্ত পিপি শাহাদৎ হোসেন (২)। তিনি বিচারকাজ চলাকালে মোট ১২ জন সাক্ষীর জেরা আদালতে পেশ করেন। মামলাটি চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে শাহাদৎ ২ নম্বর পলাতক আসামির পক্ষ নিয়ে আদালতের কাছে গোপনে একটি আবেদন জানান। সেই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পলাতক আসামির ক্ষতির কথা চিন্তা করে ১২ জন সাক্ষীকে পুনরায় দ্বিতীয়বারের মতো জেরা করা প্রয়োজন। এটা করা না হলে ওই আসামির ক্ষতির কারণ ঘটবে। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক ইশরাত জাহানের আদালতে এ আবেদন জানানো হয়। গোপনীয়তা অবলম্বন করায় বিগত ১৮ এপ্রিল এ আবেদন করা হলেও এত দিন তা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সর্বশেষ গত ১ আগস্ট আবেদনটি বিচারকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর এমন ভূমিকা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।

জানতে চাইলে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নুরুস সালাম সাগর বলেন, ‘এটা একেবারেই অন্যায় একটি কাজ। রাষ্ট্রপক্ষের পিপির আসামিপক্ষ নিয়ে অন্যায় কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানাব।’

অভিযোগের ব্যাপারে জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেন (২) বলেন, ‘আসামির পক্ষ নিয়ে আবেদনটি ভুলবশত জমা দেওয়া হয়েছিল। আদালত এটি ধরে ফেললে আমি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। আর এখানে ওই আসামির কাছে থেকে আর্থিক কোনো সুবিধা নেওয়ার বিষয় নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা