kalerkantho

দুর্নীতির প্রধান

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতির প্রধান

নোমান আহমদ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন কি না জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিন সদস্যের কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এর আগে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা প্রধানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (্ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীও ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে কালের কণ্ঠ গত ২৪ জুলাই এবং গত ২ আগস্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সংসদ সদস্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেট, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে ক্রমে অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে প্রায় পঙ্গুত্ব অবস্থায় পৌঁছেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে বিদ্যালয়টিকে অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করেছে। যার জন্য এলাকার সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। এমনকি নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি না থাকায় বছরের পর বছর টিউশন ফিসহ সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের নামে অগ্রণী ব্যাংকের কটারকোনা বাজার শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট থাকা সত্ত্বেও সেখানে কোনো প্রকার লেনদেন করা হয়নি। সরকারি শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা ভুয়া প্রার্থী বানিয়ে এবং জাল স্বাক্ষর করে আত্মসাৎ করেন।

এদিকে যৌন হয়রানি মামলায় সাত দিন পলাতক থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরেন। নির্দোষ প্রমাণ করতে তদন্ত প্রতিবেদন তাঁর পক্ষে নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে গতকাল সোমবার মানববন্ধন আয়োজনের চেষ্টা করেন। পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়।

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, নিরপেক্ষ তদন্ত করলে সঠিক ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়।’ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করলেও তিনি আর ধরেননি।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদি-উর রহিম জাদিদ বলেন, ‘সরেজমিনে তদন্ত করছি। যৌন হয়রানি ও আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। আগামী সপ্তাহের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেব।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব একমাত্র ব্যবস্থাপনা কমিটির। কিন্তু এই বিদ্যালয়ে কোনো কমিটি নেই।’

কুলাউড়ার ইউএনও ও বিদ্যালয় অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, ‘চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটে পাঠিয়ে দেব।’

মন্তব্য