kalerkantho

কেশবপুর

মূর্তি নিয়ে অগ্নিমূর্তি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যশোরের কেশবপুরে স্বর্ণমূর্তি কুড়িয়ে পাওয়ার দাবিতে উপজেলার মির্জানগর গ্রামের ভ্যানচালক সামজেদ আলী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল সোমবার সকালে কেশবপুর প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৬ মে রাত ১০টার দিকে নবাববাড়ি এলাকার মির্জানগর গ্রামের সন্তোষ দত্তের ছেলে গণেশ দত্ত সাতবাড়িয়া বাজার থেকে মাছের খাদ্য কিনে তাঁর ভ্যানযোগে পুকুরে দেওয়ার জন্য নিয়ে যায়। ওই সময় গণেশ টর্চ লাইট ধরার জন্য তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পুকুরের পানিতে নেমে কিছুদূর যাওয়ার পর নিচে কিছু একটা পড়ে থাকতে দেখেন। কৌতূহলবশত কাদার ভেতর থেকে সেটা তুলে পরিষ্কার করলে বুঝতে পারেন সেটি একটি দুর্লভ সোনার তৈরি নারী দেবীর মূর্তি। বিষয়টি বুঝতে পেরে গণেশ দত্ত তাঁর কাছ থেকে মূর্তিটা জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে ছিনতাইকারী বলে চিৎকার দেয়। এ সময় তার ডাকচিৎকারে লোকজন ছুটে এসে সামজেদকে পিটিয়ে আহত করে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান তাঁদের নিয়ে বৈঠকে বসলেও গণেশ ওই মূর্তি পাওয়ার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

সোনার মূর্তিটি আত্মসাতের লক্ষ্যে গণেশ বৈঠকে একটি পিতলের মূর্তি পেয়েছে বলে উপস্থিত সবাইকে দেখালেও তার সঙ্গে পুকুর থেকে পাওয়া মূর্তির কোনো মিল নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন। সামজেদ আলী ওই দুর্লভ সোনার নারী দেবীর মূর্তিটি উদ্ধার করে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরে জমা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। এতে গণেশ দত্ত তাঁর পরিবারকে একের পর এক হুমকি দিয়ে আসছেন। ফলে তিনি ভীতিকর অবস্থায় রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সামজেদ আরো বলেন, মির্জানগর গ্রামে নওয়াব ফৌজদারের স্থাপত্য কাঠামোটি হাম্মামখানা হিসেবে পরিচিত। এ কারণেই নবাববাড়ির ঐতিহাসিকভাবে প্রত্নতত্ত্ব এলাকা হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত ২৯ জুলাই লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

এ ঘটনায় গণেশ দত্ত বলেন, ‘বিষয়টি মিথ্যা। সেদিন একটি পিতলের মূর্তি পাওয়া গিয়েছিল।’ এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার ওসি মো. শাহিন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা