kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

‘আমার আচরণ এ রকমই’

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



১৫ মাস বয়সী অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে গতকাল রবিবার ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন এ প্রতিবেদক। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও তাঁর মেয়েকে আগে না দেখেই টাঙ্গাব ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের রোগীকে দেখতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন ডা. মাহবুব আলম। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের রোগীকে আগে না দেখলে তিনি আমার মাথায় বাড়ি দেবেন। আপনি তো আমার মাথায় বাড়ি দিতে পারবেন না।’ এ সময় এভাবে কেন কথা বলছেন—জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ হয়ে ডা. আলম বলেন, ‘আমার মা ভিক্ষা করে ডাক্তার বানাইছে, তাই আমার আচরণ এ রকমই।’

গতকাল এ প্রতিবেদক ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনরা জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমের কক্ষে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রোগী নিয়ে সেখানে আসেন টাঙ্গাব ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন সাগর। এ সময় ডা. আলম সেখানে আগে থেকে অপেক্ষারত রোগীদের না দেখেই চেয়ারম্যানের রোগীকে দেখতে পাশের কক্ষে যাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় এ প্রতিবেদক তাঁর অসুস্থ মেয়েকে দেখার কথা বললে ডা. আলম ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে উল্টাপাল্টা আচরণ করেন।

প্রায়ই রোগী কিংবা তার স্বজনদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ। পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী আলাল উদ্দিনের অভিযোগ, “কয়েক দিন আগে সন্ধ্যায় আমার শিশু নাতনিকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যাই। সেখানে ডাক্তারকে দেখেই নাতনি কান্নাকাটি শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কর্তব্যরত নারী ডাক্তার চিৎকার করে বলেন, ‘যান বাচ্চার কান্নাকাটি থামিয়ে পরে নিয়ে আসেন’। পরে নাতনির চিকিৎসা না করিয়েই চলে আসি।” উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘এ ধরনের খারাপ আচরণ করা ঠিক হয়নি। আমি ডা. মাহবুব আলমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা