kalerkantho

শিবপুরে বিদ্যুতের খুঁটি ভেতরে রেখেই ভবন

নরসিংদী প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিবপুরে বিদ্যুতের খুঁটি ভেতরে রেখেই ভবন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নরসিংদী জেলার শিবপুরের শাষপুর এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেতরে রেখেই চারতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত হবে। তাই একটি চক্র অধিগ্রহণে বাড়তি ক্ষতিপূরণের আশায় নির্মাণ করছে অপরিকল্পিত সুউচ্চ ভবন। এর একটি নরসিংদীর শিবপুরের শাষপুর এলাকায়। চারতলা এই ভবনের ছাদের ভেতরে রয়েছে হাই ভোল্টেজের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়া তারের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। আর দুটি খুঁটি ছাদঘেঁষা।

এই ভবনের কাজ করতে গিয়ে গত ২৯ জুলাই বিকেলে সেলিম মিয়া ও রাজিব মিয়া নামের দুই নির্মাণ শ্রমিক বিদ্যুত্স্পর্শে গুরুতর আহত হন। এর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আহত সেলিম মিয়া গত শনিবার রাত ১১টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত সেলিম স্থানীয় আদঘাটিয়া এলাকার আলাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত হবে। আর এই চার লেন সড়কের জন্য আশপাশের জমি অধিগ্রহণ করা হবে। অধিগ্রহণ করলে জমির পাশাপাশি এর ওপর নির্মিত অবকাঠামোর জন্য আলাদা দাম ধরে ক্ষতিপূরণ দেয় সরকার। ফলে যেসব জমি অধিগ্রহণ হতে পারে সেগুলোতে বাড়তি ক্ষতিপূণের আশায় একটি চক্র জমি ভাড়া নিয়ে পাকা স্থাপনা তৈরি করছে। আবার অনেকে নিজের জমিতেও অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ করছে। এর একটি হচ্ছে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের শাষপুর এলাকায়। ভবনটি নির্মাণ করছেন নরসিংদীর সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদিয়া এলাকার জামাল ও কামাল নামের দুই সহোদর।

ভবন নির্মাণের এ জায়গাটি দুই বছর আগে মামা মিসির আলীর কাছ থেকে ওয়ারিশসূত্রে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁদের মামাতো ভাই শাকিল মিয়া। চার মাস আগে তাঁরা এই ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। এরই মধ্যে ভবনটির চারতলার নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। গত ২৯ জুলাই বিকেলে এই ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুত্স্পর্শে সেলিম মিয়া ও রাজিব মিয়া নামের দুজন নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর আহত হন। এর মধ্যে আহত সেলিম গত শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ভবনটি দক্ষিণ পাশে ভাঙ্গারির দোকান চালান রহিম মিয়া নামের একজন। তিনি বলেন, ‘আমি এই এলাকা দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছি। ভবনটি জামাল আর কামাল নামের দুই ভাই তৈরি করছেন। গত সোমবার বিকেলে এই ভবনে কাজ করার সময় দুই রাজমিস্ত্রি কারেন্টের শক খেয়ে ওপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।’ এ সময় নয়ন নামের আরেকজন বলেন, ‘ওই দিন বিকেলে হঠাৎ ভবনের ছাদের কাছে ফায়ারিংয়ের শব্দ পেলাম। পরে সেখানে গিয়ে দেখি সেলিম ও রাজিব নামের দুই রাজমিস্ত্রি বিদ্যুত্স্পর্শে ছাদের ওপর থেকে নিচে পড়ে গেছে। এর মধ্যে সেলিমের প্রায় পুরো শরীর আগুনে ঝলসে যায়। পরে তাঁকে দ্রুত নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। শুনেছি শনিবার রাতে সেলিম মারা গেছেন।’

সরেজমিনে বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ইটাখোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০০ মিটার সামনে এগোলেই সড়কের পশ্চিম পাশে একটি চারতলা নির্মাণাধীন ভবন। ভবনটির পূর্ব-দক্ষিণ কর্নারে চারটি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে, যার মধ্যে একটি খুঁটি চারতলার ছাদের ভেতরে ঢালাই দেওয়া আর দুটি খুঁটি ছাদ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই খুঁটিগুলো দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে বলে উপস্থিত লোকজন জানায়।

এই ভবন সম্পর্কে আইয়ুব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান সরকার বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় তারা অনেকটা গায়ের জোরে ভবনটি নির্মাণ করছে।’

শিবপুর পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক নওশের আলী বলেন, ‘ভবনটি নির্মাণের সময় বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর জন্য তারা আবেদন করেছিল। কিন্তু ভবন নির্মাণের আগে বিদ্যুতের লাইন টানায় এখন খুঁটি সরানো যাবে না মর্মে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি খুঁটি থেকে নিরাপদ দূরত্বে ভবন নির্মাণ করতে বলা হয়েছিল। আর লাইনটি যেহেতু ৩৩ হাজার ভোল্টেজের ডাবল সার্কিট লাইন, সেহেতু এটা সরানোর কোনো সুযোগ নেই। আর দুর্ঘটনার বিষয়টি আমি অবগত নই।’

এ ব্যাপারে জামাল ও কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁরা এই ভবন এলাকায় আসেননি বলে স্থানীয়রা জানায়। আর কারো কাছে তাঁদের মোবাইল নম্বরও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য