kalerkantho

মণিরামপুর

গ্রাহকদের ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ দুই ব্যাংক কর্মকর্তা জড়িত

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি    

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনতা ব্যাংকের যশোরের মণিরামপুর শাখার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্তত ২৫ জন গ্রাহকের কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ঘটনাটি জানাজানি হলে অন্য গ্রাহকরা তাদের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে কি না তা জানতে ব্যাংকে ভিড় করছেন। কেউ কেউ আবার ব্যাংক থেকে হিসাব গুটিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মাসে জনতা ব্যাংকের মণিরামপুর শাখার কাউন্টারে গিয়ে নিজ অ্যাকাউন্টে জমা করার জন্য অফিসার (ক্যাশ) আলমগীর কবীর রিংকুর কাছে এক লাখ টাকা জমা দেন মণিরামপুর পৌর শহরের ব্যবসায়ী নিরঞ্জন ঘোষ। এ সময় আলমগীর জমা স্লিপে সিল মেরে স্বাক্ষর করে টাকা জমা নেন। পরে নিরঞ্জন জানতে পারেন যে তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়নি। তখন তিনি জমা স্লিপ নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে বিষয়টি ধরা পড়ে। একইভাবে মিশন সাহা, অহেদুজ্জামানসহ অন্তত ২৪ জন গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর তা জানাজানি হওয়ার পর ব্যাংকটির যশোর এরিয়া অফিস থেকে দুই কর্মকর্তা গোপাল মল্লিক ও নূর মোহাম্মদকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তারা তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পান। এ ঘটনায় ব্যাংকটির অভিযুক্ত অফিসার (ক্যাশ) আলমগীরকে মণিরামপুর থেকে যশোর এরিয়া অফিসে ওএসডি ও আরেক অফিসার আশিষ কুমার ঘোষকে নাভারন শাখায় বদলি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা গ্রাহকদের আত্মসাৎ করা টাকা গোপনে তাদের ফেরত দিচ্ছে বলে জানা গেছে। ব্যাংকটির গ্রাহক মণিরামপুর পৌর শহরের মুদি ব্যবসায়ী মিশন সাহা অভিযোগ করেন, গত ৩ জুলাই তিন লাখ টাকা জমা দেন তিনি। পরে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের খবর শুনে তিনি ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাঁর অ্যাকাউন্টে আড়াই লাখ টাকা জমা হয়নি। শেষে ব্যাংকের ম্যানেজার কৌশলে তাঁর টাকা তাঁকে বুঝিয়ে দেন। 

আরেক গ্রাহক নাছির আহমেদ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘মানুষের আর কোনো আস্থার জায়গা রইল না। ভাবছি, ব্যাংক হিসাব গুটিয়ে নেব।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা আলমগীর ও আশিষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ করা হলে জনতা ব্যাংকের মণিরামপুর শাখার ম্যানেজার এমরান হোসেন শামিমেরও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যশোর এরিয়া অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মিজানুর রহমান কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘এরিয়া অফিসের আওতায় বিভিন্ন শাখার আটজনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে মণিরামপুরের দুজন অফিসার আছে।’ 

মন্তব্য