kalerkantho

সাপাহারে পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওগাঁর সাপাহারে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি জানলেও লিখিত অভিযোগ না পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

জানা গেছে, উপজেলার গবাদি পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে অস্বাভাবিক হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার সীমান্তবর্তী মিরাপাড়া দীঘির হাট ও শনিবার সাপাহার উপজেলা সদরের বিশাল গবাদি পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গরু-মহিষের জন্য সরকার নির্ধারিত টোলের পরিবর্তে ৫০০ টাকা এবং নিয়ম না থাকলেও বিক্রেতার কাছ থেকে পশুপ্রতি ২০ টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া শতকরা ১০ টাকা হারে প্রতিটি ছাগল-ভেড়ার জন্য সর্বোচ্চ এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। গরু বা মহিষ যে দামেই কেনা হোক না কেন, প্রতিটি পশুর জন্য ৫২০ টাকা টোল আদায় করা হয়। অন্যদিকে মাত্র ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি ছাগলের জন্য এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত টোল নেওয়া হচ্ছে। এক লাখ টাকা গরুর টোল প৫০০ টাকা হলেও ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি খাসির টোল এক হাজার ২০০ টাকা।

সরকারিভাবে নির্ধারিত টোলের কয়েক গুণ বেশি টোল এই হাটগুলোতে আদায় করা হলেও প্রশাসনিকভাবে তা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তা ছাড়া প্রতিটি পশুর হাটের প্রবেশপথে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টোল আদায়ের তালিকা টাঙানোর কথা থাকলেও তা নেই। প্রতি হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়কে কেন্দ্র করে গবাদি পশুর ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে ইজারাদারের লোকজনের প্রায়ই বাগিবতণ্ডা লেগেই থাকে।

গত শনিবার উপজেলা সদরের পশুর হাটে উপজেলার বাখরপুরের সেলিম, কাশিতাড়ার আরিফ মণ্ডল, লালচান্দা গ্রামের মোকসেদুল, রামরামপুরের মজিবর রহমান, পিছলডাঙ্গার মমিনুলসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানায়, এই দুটি হাটে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ যাতে প্রমাণ করা না যায়, সে জন্য ক্রেতাকে দেওয়া পশুর ছাড়পত্র রসিদে পশুর দাম উল্লেখ থাকলেও টোলের পরিমাণ লেখা হয় না। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন জানলেও তা বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কল্যাণ চৌধুরী জানান, যে হাটগুলোতে যাতে অতিরিক্ত টোল আদায় ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানি করা না হয়, এ জন্য সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের আগেই হুঁশিয়ারি জানানো হয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত ভুক্তভোগী কোনো ক্রেতা অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে তাঁর কাছে অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আগামী হাটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

মন্তব্য