kalerkantho

মাউশি উপপরিচালকের দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাউশি উপপরিচালকের দুর্নীতি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (ডিডি) ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। অনিয়ম-দুর্নীতিই যেন তাঁর নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক এমপিওভুক্তি থেকে শুরু করে নানা অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে এরই মধ্যে কোটি টাকার পাহাড় গড়েছেন তিনি। তাঁর অনিয়মের বিষয়টি দৃষ্টিগোচরও হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এরই মধ্যে সেই অনিয়মের তদন্তও শুরু হয়ে গেছে। মাউশির পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি গত শনিবার থেকে এ তদন্ত শুরু করে। রাজশাহী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ হবিবুর রহমানকে এ তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তিনি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যক্ষ মুহাম্মদ হবিবুর রহমান জানান, গত শনিবার থেকে শরমিন ফেরদৌসের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলো তদন্ত শুরু করেছেন তিনি। তদন্ত শেষে দ্রুত মাউশিকে প্রতিবেদন জমা দেবেন বলেও জানান তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ডিডি ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরীকে একবার শাস্তিমূলকভাবে ঢাকায় শিক্ষা ভবনে টেনে নেওয়া হয়েছিল। তিনি আবারও তদবির করে রাজশাহীতে এসেছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) তালিকাভুক্ত করতে মাউশির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়ে থাকে। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ নিষিদ্ধ হলেও ডিডি শরমিন ফেরদৌস কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার খনজোর জয়সাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক নাজমা আকতার বানুকে এমপিওভুক্ত করেছেন। দারুল ইহসানের সনদে একই পদে এক লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. সেলিমেরও এমপিও করে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও ২০১৬ সালে এমপিও হয়েছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিজ্ঞানের শিক্ষক মোজাফফর হোসেনের। দুর্গাপুর উপজেলার পানানগর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষক মো. রোকনুজ্জামানেরও এমপিও হয়েছে অনিয়ম করে।

১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকলেও চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জাল সনদে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান ইমদাদুল হক। অভিযোগ রয়েছে, এর জন্য দুই লাখ টাকা নিয়েছেন ডিডি শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় এই দুর্নীতি ধরতে পারলে ইমদাদুল হকের বেতন বন্ধ করা হয়। টাকার বিনিময়ে জাল নিবন্ধন সনদে এমপিওভুক্ত হন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জেসমিন আরা।

অভিযোগে আরো জানা গেছে, বাঘা উপজেলার কেশবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান একই উপজেলার দিঘা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। অনুমোদনহীন আমেরিকা-বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড সনদ দিয়ে তিনি প্রথমে বিএড স্কেল পান। এরপর একই সনদ দিয়ে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে এমপিও করান। অথচ আমেরিকা-বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএড কোর্সের অনুমোদনই নেই। বিষয়টি জানাজানি হলে ডিডি শরমিন ফেরদৌস দুই লাখ টাকার বিনিময়ে রয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভুয়া সনদ দিয়ে হাবিবুরের এমপিও করে দেন।

এভাবে চার শতাধিক শিক্ষককে দুর্নীতির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত করে টাকার পাহাড় গড়েছেন এই নারী কর্মকর্তা। আর এসব নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মাউশির কাছে লিখিত অভিযোগ যাওয়ার পরে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষকে মাউশির পক্ষ থেকে তদন্তভার দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে কোনো শিক্ষককে বদলি করা যাবে না বলে পরিপত্র জারি করলেও দিলরুবা আক্তার নামের এক শিক্ষককে চারঘাট থেকে রাজশাহী শহরে বদলি করেন শরমিন ফেরদৌস।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেন, ‘এমপিওভুক্তিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে—এমন একটি অভিযোগের তদন্তভার আমাকে দেওয়া হয়েছে। ডিডি শরমিন ফেরদৌসকে কাগজপত্র প্রস্তুত করতে বলেছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মাউশিতে গিয়ে অভিযোগগুলোর তদন্ত করব।’

তবে অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে ডিডি ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিষয়টা নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে আমি এমপিও করার জন্য কারো কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নিইনি।’

মন্তব্য