kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

গাছকাটা চেয়ারম্যান পেলেন বনায়নে জাতীয় পুরস্কার

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গাছকাটা চেয়ারম্যান পেলেন বনায়নে জাতীয় পুরস্কার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু মাহিলাড়া থেকে ডিএসবি হাট পর্যন্ত মোট ৮৮টি গাছ কেটেছিলেন। ছবিগুলো পুরনো

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু। বৃক্ষ নিধন করেও বনায়নে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ায় এলাকায় সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে। সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনও বলছে, পিকলু অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় শতাধিক মূল্যবান গাছ কেটে নিয়েছেন। একের পর এক পিকলু চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অপকর্মে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত ৩ জুন পিকলু চেয়ারম্যান এলজিইডির রাস্তার দুই পাশের সরকারি মূল্যবান গাছ কেটে নিলেও সরকারের কোনো দপ্তর রহস্যজনক কারণে বাধা দেয়নি। গত ২৭ জুন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাসরিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসকে তদন্ত করে জরুরি প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারিয়া তানজিম মাহিলাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা সরদার মজিবুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে তিনি এ বিষয়ে গত ৪ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে পিকলু বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান ৮৮টি সরকারি গাছ অবৈধভাবে কেটে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাহিলাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীন মাহিলাড়া থেকে ডিএসবি হাট পর্যন্ত এলজিইডির রাস্তার উত্তর পাশের ৭২টি রেইনট্রি ও ১০টি চাম্বলগাছ এবং দক্ষিণ পাশের একটি শিমুলগাছ, চারটি চাম্বলগাছ, একটি রেইনট্রিসহ মোট ৮৮টি গাছ ৫ নম্বর মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর নেতৃত্বে কেটে নেওয়া হয়েছে। অথচ চলতি বছর তাঁকে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে গতকাল পিকলু গুহর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর ব্যবহৃত দুটি মুঠফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্ধ থাকায় সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাছরিন তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘এলজিইডির রাস্তার পাশে থাকা সামাজিক বনায়নের গাছ কাটতে হলে উপজেলা পরিষদের সভায় অনুমোদন নিয়ে টেন্ডার অথবা নিলামের মাধ্যমে গাছ কাটতে হবে। কিন্তু মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু কিছু না জানিয়ে গাছ কেটে নিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ৪ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদনসহ লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক বরিশাল বরাবরে প্রেরণ করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা