kalerkantho

আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ প্লান্ট দুই বছর ধরে বন্ধ

চৌগাছায় আর্সেনিক ঝুঁকিতে মানুষ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ প্লান্ট দুই বছর ধরে বন্ধ

যশোরের চৌগাছার হয়াতপুর গ্রামের আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ প্লান্টটি প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হয়াতপুর গ্রামে স্থাপিত আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ প্ল্যানটি প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ। ভয়াবহ আর্সেনিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ওই এলাকার মানুষ প্লান্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্লান্ট থেকে আবারও পানি সরবরাহ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

জানা গেছে, উপজেলার পাতিবিলা হয়াতপুর গ্রাম এলাকাজুড়ে ভূগর্ভস্থ পানিতে ভয়াবহ আর্সেনিক দেখা দেয়। এলাকাবাসীর মধ্যে আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহের লক্ষ্যে বেসরকারি সংগঠন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে হয়াতপুর গ্রামে একটি প্লান্ট স্থাপন করা হয়। ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এর উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৯ বছর ধরে এলাকাবাসী ওই প্লান্ট থেকে পানি সংগ্রহ করে তা খাওয়াসহ সংসারের সব কাজ করত। শুধু হয়াতপুর পাতিবিলা এলাকাবাসী নয়, ওই আর্সেনিকমুক্ত পানি সংগ্রহের জন্য চৌগাছা পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেখানে যেত এবং পানি সংগ্রহ করত। কিন্তু প্লান্টের সব কিছু ঠিক থাকলেও কিছু সমস্যার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে সেটি বন্ধ।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও মেডিসিনের জন্য এটি বন্ধ রয়েছে। ফলে এলাকার মানুষ চরম সমস্যায় পড়েছে। আবারও মানুষের মধ্যে আর্সেনিকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্লান্টটি বন্ধ। এ সময় গৃহিণী আবিরন নেছার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৯-১০ বছর ধরে প্লান্ট থেকে আমরা পানি খেয়ে বেশ সুস্থ ছিলাম। কিন্তু দুই বছর ধরে এখান থেকে আর পানি পাওয়া যায় না। এখন বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে আসতে হয়। এখন শুনছি ওই টিউবওয়েলের পানিতেও আর্সেনিক ধরা পড়েছে। বিকল্প নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায়, আমরা বাধ্য হয়ে এই বিষ পানি পান করি।’

প্লান্ট স্থাপনের জমির দাতা হয়াতপুর গ্রামের মৃত বজলুর রহমান বলেন, ‘এলাকাবাসীর স্বার্থে নিজের জমিতে এই প্লান্টটি স্থাপন করতে দিয়েছিলাম। মানুষ এখান থেকে আর্সেনিকমুক্ত পানি সংগ্রহ করত। কিন্তু বিদ্যুৎ ও ওষুধের কারণে দুই বছর ধরে প্লান্ট থেকে পানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।’

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বলেন, ‘প্ল্যানটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার মানুষ সুপেয় পানি পাচ্ছে না। এটি এখন চালু করতে গেলে তিন থেকে চার লাখ টাকা প্রয়োজন। এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা মাসিক সমন্ব্বয় সভায় আলোচনাও করেছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। যদি সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়, তাহলে প্লান্টটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।’

মন্তব্য