kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

দালালে নিঃস্ব ওরা

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দালালে নিঃস্ব ওরা

বিদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেরা বরিশালের উজিরপুরে কয়েক যুবক

ভাগ্যবদলের আশায় বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু থেকে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ১৩ যুবক। এর মধ্যে গত বুধবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে উপস্থিত হয়ে ১০ যুবক বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ সময় তাঁরা সেখানে তাঁদের ওপর চালানো অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর প্রবাসে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই ১৩ যুবক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপে দেশে ফিরে এলেও বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা চরম অর্থকষ্টে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গত ২০ জুলাই আটজন এবং বাকি পাঁচজন ২৫ জুলাই দেশে ফেরেন।

গত বুধবার সকালে উজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সিকদার বাচ্চুর সঙ্গে দেখা করে প্রবাসে তাঁদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন সম্প্রতি দেশে ফিরে আসা উজিরপুরের জয়শ্রী গ্রামের মোফাজ্জেল হাওলাদার, আমির হোসেন হাওলাদার, ইমরান খান, শিকারপুর গ্রামের সজল জমাদ্দার ও জিয়াউল খান, ইচলাদী গ্রামের ফারুক হোসেন, ভরসাকাঠী গ্রামের সাইফুল সিকদার, উজিরপুর সদরের আমিনুল ইসলাম ও ইব্রাহীম ঢালী এবং মুগাকাঠী গ্রামের ফরহাদ হোসেন এবং হস্তিশুণ্ড গ্রামের সরোয়ার হোসেন। এ সময় সবাই অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের মানবপাচারকারী হারুন হাওলাদারের ছেলে জসিম হাওলাদার ও তাঁর শ্বশুর কাজী শামসুর রহমান দালালের মাধ্যমে তাঁদের বিদেশে পাঠায়। জসিম হাওলাদারের স্ত্রী জ্যোতি বেগম প্রবাসে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার ঘটনায় করা মামলায় কারাভোগ করছেন।

উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের সজল জমাদ্দার বলেন, কয়েক বছর ধরে বাবুগঞ্জের রাকুদিয়া গ্রামের হারুন হাওলাদারের ছেলে জসিম হাওলাদার ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নেয়। সজল আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার ১০৩ জন যুবককে দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুতে নিয়ে আটকে রেখেছে। আমরা জসিমের শ্বশুর মুলাদী উপজেলা সদরের বাসিন্দা কাজী শামসুর রহমান ও জসিমের স্ত্রী জ্যোতি বেগমের কাছে উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলা থেকে যুবকরা তাদের পাঁচ-ছয় লাখ টাকা করে দিয়েছি। একপর্যায়ে ভানুয়াতুতে আটক আমরা প্রতিবাদ করলে সহযোগীদের নিয়ে জসিম আমাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। অনাহারে দিন কাটাতে হয়েছে। পরে আমরা ১০ জন পালিয়ে ওই দেশের পুলিশের হেফাজতে গিয়ে আমাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের কথা তুলে ধরি। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আমাদের উদ্ধার করে দেশে পাঠিয়ে দেয়।’

একই গ্রামের জিয়াউল খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবার যা সম্পদ ছিল, সব জসিমের স্বজনরা হাতিয়ে নিয়ে আমাকে পথে বসিয়েছে। এখন আমরা কী করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা